Dolly Parton: চেনা হাসির আড়ালে পরম দরদি হৃদয়, সুরের আলো নিভিয়ে অনন্তে ডলি পারটন
ন্যাশভিল: আকাশভরা তারার ভিড়ে যে আলোটা সবচেয়ে বেশি ঝলমল করত, সেটাই হঠাৎ নিভে গেল। কান্ট্রি সংগীতের সম্রাজ্ঞী, একাধারে সুরকার, গায়িকা, অভিনেত্রী আর পরম দরদি ডলি পার্টন আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মঙ্গলবার টেনেসির ন্যাশভিলে নিজের বাড়িতেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ডলি পার্টন
টেনেসির এক নিঃস্ব পরিবারে ১২ ভাইবোনের ভিড়ে বড় হওয়া সেই ছোট্ট ডলি, যার জীবনের প্রথম গিটারটা তৈরি হয়েছিল কাঠ আর ভুট্টার খোসা দিয়ে, একদিন যে গোটা বিশ্বকে সুরে বুঁদ করে রাখবেন—তা রূপকথাকেও হার মানায়। শৈশবের সেই দারিদ্র্যের দিনগুলো নিয়ে লেখা ‘কোট অব মেনি কালারস’, ভালোবাসার বিষাদ মাখা ‘জোলিন’ কিংবা কর্মজীবী নারীদের লড়াইয়ের প্রতীক ‘নাইন টু ফাইভ’—প্রতিটা গানেই তিনি ঢেলে দিয়েছেন নিজের জীবন। আর তাঁর লেখা ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ কেবল গান হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে বিচ্ছেদের মধ্যেও অবিনশ্বর এক ভালোবাসার ভাষা।
আরও পড়ুন: কাঁটাতারে বাঁধা স্বাধীনতা: ঋত্বিকের সিনেমায় যে দেশ আজও ঘরে ফেরেনি
আরও পড়ুন: Bollywood: শুটিং সেটের বাইরে পুলিশের জাল: মাদক মামলায় গ্রেপ্তার বলিউড অভিনেতা
তবে শুধুই তো সুরের জাদু নয়, ডলি ছিলেন আদ্যোপান্ত এক অনন্য মানবিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর ট্রেডমার্ক অতি-ঝলমলে পোশাক আর স্বভাবসিদ্ধ চেনা হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভীষণ দরদি এক হৃদয়। কোটি কোটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’র সফর হোক কিংবা মহামারীর দিনে ভ্যাকসিন গবেষণায় বড় অনুদান—সবখানেই তিনি প্রমাণ করেছেন, শিল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য লুকিয়ে থাকে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।
মঞ্চের আলো হয়তো নিভে গিয়েছে, থেমে গিয়েছে চিরচেনা সেই বাজনাও। কিন্তু পৃথিবীর বাতাস যতদিন থাকবে, সেখানে অমর হয়ে ভেসে থাকবে ডলির শেষ বার্তা—‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’।
