বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

কলকাতার বাজার অগ্নিমূল্য, পেঁয়াজ-আদা-রসুন-আলুর দামে বাড়ছে চাপ

26 August, 2026 1:03 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : বর্ষার মরশুমে সবজির জোগান ও পরিবহণ ব্যবস্থার ওঠানামার প্রভাব পড়ছে কলকাতার খুচরো বাজারে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি সবজির দাম নিয়ে ইতিমধ্যেই বাড়ছে ক্রেতাদের উদ্বেগ। বিশেষ করে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম তুলনামূলক চড়া থাকায় মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বাজারদরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট কলকাতায় বড় পেঁয়াজের দর প্রায় ৪১ টাকা কেজি, আর খুচরো বাজারে তা ৪৫–৫৩ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছোট পেঁয়াজের দর প্রায় ৫৪ টাকা, খুচরোয় ৫৯–৭০ টাকা কেজি। অর্থাৎ পেঁয়াজের ধরন ও মানভেদে দামের যথেষ্ট ফারাক রয়েছে।

কলকাতার বড়বাজারের পাইকারি বাজারের তথ্যেও পেঁয়াজের দরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ছবি মিলছে। ২০ আগস্ট সেখানে বিভিন্ন মানের পেঁয়াজের দর ৩,২০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা প্রতি কুইন্টালের মধ্যে ছিল। আলুর দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও একেবারে স্বস্তি নেই। কলকাতার সাম্প্রতিক বাজারদর অনুযায়ী আলুর মাণ্ডি মূল্য প্রায় ২৩ টাকা কেজি, আর খুচরো বাজারে ২৫–৩০ টাকা কেজি। ফলে আলু-পেঁয়াজের মতো প্রতিদিনের রান্নার অপরিহার্য উপকরণ কিনতেও সাধারণ মানুষকে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে আদা ও রসুনের দাম। ২৬ আগস্টের কলকাতা বাজার-তথ্য অনুযায়ী আদার মাণ্ডি দর প্রায় ১০৮ টাকা কেজি, খুচরোয় ১১৯–১৪০ টাকা। গত সাত দিনের গড়ের তুলনায় আদার দরে প্রায় ১৪.৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। রসুনের দর প্রায় ১৭৭ টাকা কেজি, আর খুচরোয় ১৯৫–২৩০ টাকা। রসুনের ক্ষেত্রেও গত সাত দিনের গড়ের তুলনায় প্রায় ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।

পাইকারি বাজারের তথ্যও আদার চড়া দামের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বড়বাজার-পোস্তা বাজারে শুকনো আদার সাম্প্রতিক পাইকারি দর গড়ে প্রায় ১৪,৫০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল, অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ১৪৫ টাকা পর্যন্ত। বাজারে দামের এই ওঠানামার পিছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে বলে বাজার-পর্যবেক্ষকদের তথ্য থেকে বোঝা যায়।

বর্ষায় উৎপাদন এলাকার আবহাওয়া, মাঠ থেকে বাজারে পণ্য আসার গতি, পরিবহণের খরচ, সরবরাহের পরিমাণ এবং স্থানীয় চাহিদা—সবকিছুর প্রভাব পড়েছে দৈনিক দরে। আদার ক্ষেত্রেও আবহাওয়া, পরিবহণ ও সরবরাহের পরিবর্তনকে দামের ওঠানামার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ২৬ আগস্টের বাজারচিত্রে আলু তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম সাধারণ ক্রেতার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষত আদা ও রসুনের মতো মশলার দাম বাড়ায় শুধু বাড়ির রান্না নয়, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও খাবারের ব্যবসার খরচও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রশাসন এই বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টাস্কফোর্স হানা দিচ্ছে ছোট বড় বাজার গুলিতে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee