উমর খালিদ, শার্জিল ইমামের জামিনের আর্জি ফের খারিজ
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লির রক্তাক্ত দাঙ্গায় ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া উমর খালিদ এবং শার্জিল ইমামের জামিনের আর্জি ফের খারিজ করল দিল্লি হাইকোর্ট। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ। বিচারপতি প্রতিভা এম সিংহ এবং বিচারপতি দীনেশ ভট্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শীর্ষ আদালতের বেঁধে দেওয়া আইনি শর্ত পূরণ না হওয়ায় এই মুহূর্তে তাঁদের জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের বেঞ্চ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট উমর ও শার্জিলের জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল। সেই রায়ে শীর্ষ আদালত দুটি স্পষ্ট শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিল।
প্রথমত, জামিনের জন্য অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, নিম্ন আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই দুটি শর্তের একটিও এখনও পর্যন্ত পূরণ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে হাইকোর্ট যদি তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে, তবে তা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে লঙ্ঘন করার শামিল হবে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই দুজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগের গুরুত্ব, বাকিদের চেয়ে তা অনেকটাই বেশি। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিগত ছ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি রয়েছেন উমর ও শার্জিল। এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও দিল্লি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জমা পড়েছিল, তা নাকচ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। তবে বিতর্ক জোরালো হয় চলতি বছরে। ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট উমর ও শার্জিলের জামিন খারিজ করলেও, মে মাসে শীর্ষ আদালতেরই অন্য একটি বেঞ্চ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত ও ইউএপিএ আইনের ধারা প্রয়োগের নীতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। দুটি পৃথক বেঞ্চের এই বিপরীতমুখী অবস্থান এবং মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। আইনজীবীরা এই অসঙ্গতিকে সামনে রেখেই নতুন করে আর্জি জানিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। উমর ও শার্জিলের জামিন বারবার খারিজ হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
