বন্য়ায় কাটা হয়েছিল বাঁধ, জল নামতেই বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্য়বস্থা
সংবাদদাতা,মালদহ: গঙ্গার জলে প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মালদার ভূতনি থানা এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল একের পর এক গ্রাম, বহু বাড়িঘর, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং যোগাযোগের প্রধান রাস্তাঘাট। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও প্লাবিত এলাকা থেকে দ্রুত জল বের করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশে দক্ষিণ চণ্ডীপুরের এক প্রান্তে বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্লাবনের জল নামতে শুরু করার পর তৈরি হয়েছে যোগাযোগ বিপর্যয়।
বাঁধ কেটে জল বের করার ফলে দক্ষিণ চণ্ডীপুরের ওই অংশে প্রায় ১০০ মিটারের একটি বিরাট খাঁড়ি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে দু-একটি ছোট নৌকা। প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে, জরুরি চিকিৎসার জন্য কিংবা স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করতে গিয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় চড়তে হচ্ছে পথচলতি মানুষকে। সামান্য পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। স্থানীয় মানুষজনের এই দুর্ভোগ এবং ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে অবশেষে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। দক্ষিণ চণ্ডীপুরের কাটা বাঁধের সেই বিপদজনক অংশটিতে দ্রুত একটি ভাসমান ফুটব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের তদারকিতে কারিগররা শক্ত লোহার কাঠামোর নিচে বড় বড় ড্রাম বসিয়ে এই বিশেষ সেতুটি তৈরি করছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারলেও স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত নিরাপদে হেঁটে এবং সাইকেল বা বাইক নিয়ে পারাপার করতে পারবেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ভূতনির বাসিন্দারা। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, নৌকায় পারাপার করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তেমনই সময়সাপেক্ষ। এই ভাসমান ফুটব্রিজটি চালু হয়ে গেলে সাময়িকভাবে আমাদের যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। অস্থায়ী এই ভাসমান সেতুর প্রশংসার পাশাপাশি সমস্যার এক স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, নদী সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় বর্ষার মৌসুমে বারবার এই ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তাই কাটা অংশের পুনর্নির্মাণ এবং একটি আধুনিক লগ গেট বা স্লুইস গেট তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতের বন্যা প্রতিরোধ ও স্থায়ী যোগাযোগের স্বার্থে জেলা প্রশাসন জলনিকাশি ব্যবস্থা বজায় রেখে খুব দ্রুতই বাঁধের স্থায়ী সমাধান করবে প্রশাসন আশা চণ্ডীপুরের মানুষ।
