বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

নিঠারি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলির রহস্য মৃত্যু

18 September, 2026 2:55 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, হরিদ্বার:‌ নিঠারি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলির অস্বাভাবিক মৃত্যু! হরিদ্বারের ভূপতওয়ালা এলাকার লালমাতা মন্দিরের সামনে একটি চায়ের দোকান থেকে উদ্ধার হয়েছে তার ঝুলন্ত দেহ। জানা গেছে, কিছুদিন আগেই ওই চায়ের দোকানটি ভাড়া নিয়ে নিয়েছিলেন সুরেন্দ্র। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন সুরেন্দ্র কোলি৷ যদিও কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, মৃতের বয়স প্রায় ৫০ বছর। বাড়ি আলমোড়ার ভিকিয়াসৈন এলাকার মংরুখাল গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে হরিদ্বারেই বসবাস করছিলেন সুরেন্দ্র।
২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাস। নয়ডার সেক্টর ৩১–এর ডি ৫ নম্বরের বাড়ির পিছনের নর্দমা থেকে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তারপরই প্রকাশ্যে আসে নিঠারি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। যার ফলে শিউড়ে উঠেছিল গোটা দেশ। নিঠারি গ্রামের কাছের ওই এলাকায় ১৫টি মানুষের খুলি, কঙ্কাল এবং পোশাকের টুকরো উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ওই বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী মনিন্দর সিং পান্ধেরের বাড়িতে কাজ করতেন সুরেন্দ্র কোলি। শিশু অপহরণ, ধর্ষণ, খুন, মৃতদেহ ভক্ষণের মতো অভিযোগ উঠেছিল সুরেন্দ্রর বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছিল, শিশুদের খুনের পরে দেহাংশ প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে খেয়ে ফেলতেন মনিন্দর এবং সুরেন্দ্র। লোকমুখে সুরেন্দ্রর নাম হয়ে গিয়েছিল ‘নিঠারির দানব’। ২০০৭ সালে এই ঘটনার তদন্তভার পায় সিবিআই পরবর্তীতে কোলি ও পান্ধেরের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি চার্জশিট পেশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ট্রায়াল কোর্ট সুরেন্দ্র কোলিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর মধ্যে ১৪ বছরের কিশোরী রিম্পা হালদার হত্যার মামলাও ছিল। এরপর ২০১১ সালে রিম্পা হালদার মামলায় কোলির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত। তাঁর প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হয় এবং ২০১৪ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরোয়ানা জারি হয়। তবে সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত হয়ে যায়। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রাণভিক্ষার আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কোলির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
২০২৩-এ বড় আইনি মোড় এরপর ২০২৩ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট নিঠারি সংক্রান্ত ১২টি মামলা থেকে সুরেন্দ্রকে রেহাই দেয়। একই খালাস করে দেওয়া হয় মনিন্দর সিং পান্ধেরকেও। এরপর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বরে সুরেন্দ্র কোলির বিরুদ্ধে থাকা শেষ দিকের দণ্ডও খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ।

 

 

 

 

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik