চিনি আর কম নয় ! মিষ্টি এখন তেতো আমজনতার কাছে
কলকাতা : চিনিতে আর মিষ্টি নেই !
গত কয়েক সপ্তাহে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা। ২০ অগাস্ট সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় কম দেশীয় উৎপাদন।
উৎসবের মরশুমের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত কারণে আখের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং শিল্পের কিছু অংশের জল্পনা ও মজুতদারি। তবে চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির সব থেকে বড় সমস্যা ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়ার কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চিনির দাম বেড়েছে। তবে এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানাল কেন্দ্র।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ইথানল উৎপাদনের জন্য সরিয়ে নেওয়া চিনির পরিমাণ ২০২২-২৩ সালে প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই শস্য থেকে তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল ভুট্টা।
সরকার জানিয়েছে, চিনির বর্তমান পরিস্থিতির উপর তারা কড়া নজর রাখছে। একইসঙ্গে দেশের বাজারে পর্যাপ্ত চিনি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জন্য দাম স্থিতিশীল রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মরশুমে দেশে চিনি উৎপাদন প্রায় ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন (LMT) হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির প্রাথমিক অনুমান ছিল প্রায় ৩৪৩ LMT চিনি উৎপাদনের। এছাড়াও আখের জমিতে রোগের প্রকোপ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জল জমে যাওয়ায় চিনি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও দেশে পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিও আরও অনিশ্চিত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু ২০২১-২২ সালের পর থেকে আর কোনও নতুন ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়নি।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত চিনির দাম বছরে গড়ে মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। এদিকে চিনির মজুত নিয়েও বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। ১ অগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে চিনি ব্যবসায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০০ টন মজুতের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।তবে এই সমস্ত সমস্যার মধ্যেও চিনির অতিরিক্ত দাম নিয়ে চিন্তিত মিষ্টি বিক্রেতা ও আন জনতারা।
