বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

শিলংয়ে অশান্তির ধাক্কা পর্যটন শিল্পে, পুজোর মুখে চিন্তায় হোটেল ব্যবসায়ীরা

24 August, 2026 2:49 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

মেঘালয়ে অনেকেই বর্ষার সময় বেড়াতে যান।

বর্ষায় মেঘালয়ের সৌন্দর্যই আলাদা। কিন্তু সেখানে হঠাৎ লাগল ধাক্কা। কেন এভাবে মার খেল সেখানকার পর্যটন শিল্প? কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন পর্যটকরা? কারণটা অবশ্যই খাসি ছাত্রদের আন্দোলন। সেই উন্মত্ত আন্দোলনে ভাঙচুর হয়েছে পর্যটকদের গাড়ি, অসমের বহু গাড়ি। সেই তাণ্ডবের হাত থেকে রেহাই পায়নি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিও। দিকে দিকে তার নিন্দায় মুখর হয়েছে বাঙালি। সেইসব ঘটনার জেরে শিলংয়ের পাহাড়ে এখন পর্যটকদের ভিড়ের বদলে ছড়িয়ে পড়েছে অনিশ্চয়তার ছায়া।

মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয় থেকে অনেকেই সফর বাতিল করে চলে এসেছেন এবং আসছেন। এই গণ্ডগোলের জেরে মেঘালয়ের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের হোটেল ও হোমস্টের বুকিং একের পর এক বাতিল হচ্ছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ বুকিং বাতিল হওয়ায় পর্যটন-নির্ভর মেঘালয়ের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। গুয়াহাটি–শিলং রুটে গাড়ি চলাচল নিয়েও তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে অসমের নম্বর-প্লেটের গাড়ি নিয়ে উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে পর্যটকদের যাতায়াতে। ঠিক এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে চিন্তায় সেখানকার হোটেল ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁ ও গাড়ির চালকরা। সামনেই পুজো। তাহলে কি মার খেতে পারে পুজোর ব্যবসা?

শিলং, সোহরা বা চেরাপুঞ্জি ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অশান্তির জেরে তাঁদের আশি থেকে নব্বই শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে। এইসব ট্যুরিস্ট স্পটে মোট হাজার দেড়েকের মতো হোটেল আছে। রুম আছে প্রায় দশ হাজার। সেখানে সব একে একে বুকিং বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ফেরত দিতে হচ্ছে অগ্রিম বাবদ জমা দেওয়া টাকা। হোটেল ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তাড়াতাড়ি এই সমস্যা না মিটলে আরও সর্বনাশ হবে। সামনেই পুজো থেকে পর্যটন মরশুম ফুল পিক আপ নেবে। চলবে সেই ইংরেজি নববর্ষ পর্যন্ত। কিন্তু যদি এভাবে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তবে তার কুপ্রভাব পর্যটন শিল্পেও পড়বে।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই রাজ্যের প্রশাসন সক্রিয় হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দুই রাজ্যই আন্তঃরাজ্য যাতায়াত স্বাভাবিক করা এবং পর্যটক ও গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়েছে। সেটাই আশার কথা। অর্থাৎ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে আপাতত আলোচনার পথেই সমাধানের চেষ্টা চলছে। দুই রাজ্যের মন্ত্রীরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

কিন্তু শিলংয়ের ক্ষেত্রে আসল পরীক্ষা এখন অন্য জায়গায়। এখন তাদের উচিত, পর্যটকদের মনে ফের নিরাপত্তার বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। কারণ পাহাড়ের সৌন্দর্য যতই অমলিন থাকুক, অশান্তির খবর ছড়ালে পর্যটকরা সেখানে থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। সকলেই চাইছেন দ্রুত স্থিতাবস্থা ফিরুক। মেঘালয়ের ব্যবসায়ীরাও চাইছেন, শান্তি ফিরুক এবং ফিরে আসুন পর্যটকরাও।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee