কলেজ ছাত্রীদের অভিনীত ‘রক্তকরবী’
নিজস্ব প্রতিবেদন : একশো বছর আগে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ‘রক্তকরবী’ নাটকটি। এই নাটকটির মধ্য দিয়ে বদলে যাওয়া সমাজ, মানুষের আগ্রাসী লোভ, নিপীড়ন এবং প্রেমের কথা বলেছেন তিনি। কয়েকবছর ধরে বারবার তিনি নাটকটি নিয়ে কাটাছেঁড়া করেছেন। এ বছর নাটকটির শতবর্ষ। সেই উপলক্ষ্যে দেশবন্ধু কলেজ ফর গার্লসের ছাত্রীরা নাটকটি তাঁদের কলেজের অডিটোরিয়ামে অভিনয় করেন। উপস্থাপনার গুণে বহু অভিনীত নাটকটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নন্দিনীর ভিতরে যে প্রতিবাসের আগুন, তা কখনও জ্বালিয়ে দেয় না। তা মানুষকে বদলে দেয়। তার প্রেমের স্পর্শে সে মানুষের ভিতরের অশুভ শক্তিকে শুভ শক্তিতে পরিণত করে। তাই একদিন অন্ধকারের ফ্যাসিস্ট রাজা বেরিয়ে আসে যক্ষপুরীর প্রাসাদ ভেঙে। তার নিজের লড়াই তখন নিজের বিরুদ্ধে। এইভাবেই যেন মেলে মুক্তি। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, রক্তপাতের দ্বারা কোনও বিপ্লবই সফল হতে পারে না। তিনি বারবার বলতেন, পরিবর্তনের মূল শর্তই হল ভিতরের অশুভ শক্তির বিনাশ। সেটা বদল না হলে ফ্যাসিজম বারবার ফিরে আসবে অন্য রূপে, অন্য রঙে। সেই বদলে দেওয়ার অস্ত্র রক্তকরবী। সে যেমন প্রেমের প্রতীক, তেমনই প্রতিবাদেরও প্রতীক।
দেশবন্ধু কলেজের ছাত্রীরা তাঁদের সম্মিলত অভিনয়ের টানে দর্শকদের যে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন, সেটা বোঝা যায় নাটক শেষের দীর্ঘ করতালিতে। অভিনয়ের জন্য সবথেকে প্রশংসার দাবি রাখেন নন্দিনীর ভূমিকায় সর্বানী হালদার। তিনি অসাধারণ মুন্সিয়ানায় নাটকের প্রাণকেন্দ্রটিকে ধরে রেখেছিলেন। তিনিই ছিলেন সূর্যের মতো। বাকি চরিত্রগুলি তাঁকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। রাজার ভূমিকায় জলি ভৌমিক দাস আড়াল থেকে তাঁর কণ্ঠাভিনয়ের দক্ষতা দেখিয়েছেন। রাজার ঔদ্ধত্য, রাগ, ঈর্ষা, কাতরতা, প্রেম, অসহায়তা তাঁর অভিনয়ে মূর্ত হয়ে উঠেছে। বিশু পাগলের ভূমিকায় শ্বেতা বসু তাঁর গোপন প্রেমের ব্যথাটিকে যথার্থভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন। তাঁর গানের ভিতর দিয়ে সেই ব্যথা যেন দর্শকদের আবেগকেও ছুঁয়ে ফেলেছিল। গোঁসাইয়ের ভূমিকায় অয়ন্তিকা সরকার চরিত্রটির ঠিক জায়গাটিকে ধরতে পেরেছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন ভূমিকায় ভালো অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নাটকের ছন্দটিকে ধরে রেখেছিলেন তনুশ্রী আদক (অধ্যাপক), সংঘপিতা নায়ক (ফাগুলাল), গোকুল (তনুশ্রী দাস), রিয়া হালদার (কিশোর), শ্রেয়া অধিকারী (চন্দ্রা), সায়নী আদক (সর্দার)। ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে’ গানের অংশে নাচে অংশ নেন মনীষা সিং, সুস্মিতা মণ্ডল, রূপসা মাখাল, উমা রায়। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন সন্দীপন বিশ্বাস। প্রযোজনায় ছিলেন অধ্যাপিকা শ্রীমতী মজুমদার। নেপথ্যের দায়িত্ব সামলেছেন অধ্যাপিকা শম্পা বসু। সামগ্রিক সহযোগিতায় ছিলেন অধ্যক্ষা অনীতা চট্টোপাধ্যায় গুপ্ত।
