আগমনী ২০২৬: নরউইচে দুর্গোৎসবের চতুর্থ বছর
কাশফুলের দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে, নরফোকের নিরিবিলি শহর নরউইচে শরৎ আসে তার নিজস্ব ঢঙে, সঙ্গে থাকে ধূসর আকাশ আর কনকনে হাওয়া। তবু অক্টোবর পড়তেই এখানকার বাঙালিদের মনে বেজে ওঠে ঢাকের বোল। কারণ উমা আসছেন আবার।
নরউইচ বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ১৫ই এপ্রিল, পয়লা বৈশাখের এক উৎসবমুখর শনিবারে। নরউইচ ও নরফোকের কয়েকজন বাঙালির ছোট্ট সেই উদ্যোগ এখন প্রবাসী বাঙালিদের কাছে ‘দ্বিতীয় বাড়ি’। দুর্গাপূজা, দীপাবলি ও সরস্বতী পূজা ছাড়াও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দাতব্য কাজের মাধ্যমে সংগঠনটি সব পটভূমির মানুষকে এক সুতোয় গাঁথতে চায়। এই যাত্রাপথের চতুর্থ দুর্গোৎসব ‘আগমনী’ হবে ২৪শে অক্টোবর, শনিবার। সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান, স্থান টানস্টলের অ্যাকল নিউ রোডে বৈদিক কালচারাল সোসাইটি অফ ইস্ট অ্যাংলিয়া পরিচালিত হিন্দু মন্দির।
দিনের শুরু হবে মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ-ধুনোর সুবাস আর পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে। বেলা বাড়লে মঞ্চে জমে উঠবে গান ও নাচ। খুদেদের ফ্যাশন শো, রাফেলের রোমাঞ্চ এবং ভারতীয় স্ট্রিট ফুডের লোভনীয় স্টলও থাকছে। শেষবেলায় সিঁদুর খেলায় সবার মুখ রাঙা হবে, তারপর সবাই একসঙ্গে বসবেন ভোগ খেতে।এই পুজোর পিছনে কোনও পেশাদার আয়োজক নেই। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাই নিজেদের কাজ ও সংসার সামলে মাসের পর মাস প্রস্তুতি নেন। মন্দির সাজানো, ভোগ রান্না, অনুষ্ঠানের মহড়া, অতিথি আপ্যায়ন, সবই ভালোবাসার শ্রমে তৈরি।
এবারের উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ব্রডল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান ও নরউইচের শেরিফ। তাঁদের উপস্থিতিই আরও একবার বুঝিয়ে দেয়, নরফোকের বহুসাংস্কৃতিক জীবনে বাঙালির এই উৎসব এখন সকলের।উৎসবের আনন্দের সঙ্গে এবারও জড়িয়ে থাকছে একটি অঙ্গীকার, ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-র জন্য অর্থসংগ্রহ। আগের বছরের মতো এবারও রাফেল টিকিট কেনা হোক বা ছোট অনুদান, প্রতিটি অবদান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন আশা জোগাবে।আপনি বাঙালি হোন বা না হোন, নরফোকে স্থায়ীভাবে থাকুন বা কয়েকদিনের জন্য, এই দিনটিতে সকলের জন্য দরজা খোলা। ঢাকের তালে তাল মেলাতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে চলে আসুন। দূর প্রবাসেও উমার আগমন মানেই ঘরে ফেরা।
