বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুড়েই সূচনা হয় মালদহের সিঙ্গাবাদ রায়বাড়ির ঐতিহাসিক দুর্গাপুজোর

02 October, 2026 1:33 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, মালদহ:  জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে বহুদিন আগে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক সুবিশাল রায়বাড়ির আনাচে-কানাচে ধরেছে নোনা ও ফাটল। কিন্তু ম্লান হয়নি ঐতিহ্য। নিয়ম ও ভক্তির মেলবন্ধনে আজও পুজো এলেই প্রাণ ফিরে পায় মালদার হবিবপুর ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তিলাসনের সিঙ্গাবাদ রায়বাড়ি। আর সেই পুরনো রীতি ও রাজকীয় ঐতিহ্য মেনে আজও শূন্যে পাঁচ রাউন্ড বন্দুকের গুলি ছুড়েই সূচনা হয় এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসবের। দেখতে দেখতে রায়বাড়ির এই দুর্গাপুজো এ বছর ২২৬ বছরে পা দিল।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজস্থানের অধিবাসী অবোধ নারায়ণ রায় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ডাল ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাংলায় আসেন। উত্তরপ্রদেশ হয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের পর তিনি সিঙ্গাবাদ রেলস্টেশন এলাকাকে তাঁর মূল কেন্দ্র বানান। রেলে করে ডাল এনে জলপথে নৌকা করে তা চলে যেত ঢাকা, রাজশাহী এমনকী কলকাতার খিদিরপুর বন্দরে। ব্যবসার সুবিধা এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য ব্রিটিশদের কাছ থেকে তৎকালীন মাত্র ৩ হাজার টাকায় এই বিশাল ভূখণ্ডের জমিদারি স্বত্ব কিনে নেন অবোধ নারায়ণ রায়।

জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর এলাকার প্রজা ও সাধারণ মানুষের মঙ্গল কামনায় তিনি সাধুর পরামর্শে ১৭৯৯ সালে রায়বাড়িতে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন তিনি। তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে এই পুজো পরিচালিত হতো। তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এই রায়পরিবারের ইতিহাসে এক বড় আঘাত আনে। দেশভাগের ফলে সিঙ্গাবাদ জমিদারি এস্টেটের সিংহভাগ অংশই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। মাত্র সামান্য কিছু অংশ থেকে যায় ভারতের মূল ভূখণ্ডে। বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে রায়বাড়ির ঐতিহাসিক ভগ্নপ্রায় অট্টালিকাটি।

রায়পরিবারের বর্তমান সদস্যরা এখন নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও পুজোর ক’দিন সবাই ফিরে আসেন শিকড়ের টানে। সিঙ্গাবাদ রায়বাড়ির পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল ষষ্ঠীর দিন শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি বা ফাঁকা ফায়ারিং করা। বলিপ্রথার প্রচলন থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী ঢাকের বাদ্য — সবই চলে প্রাচীন রীতি মেনে। ওপার বাংলায় অধিকাংশ সম্পত্তি চলে গেলেও সীমান্তের এই পারে দাঁড়িয়ে আজও অতীত দিনের রাজকীয় আভিজাত্য আর ভক্তির মেলবন্ধনে বেঁচে রয়েছে সিঙ্গাবাদ রায়বাড়ির দুর্গাপূজা।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha