বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

আন্তর্জাতিক রূপে ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’, গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠান সুপ্রিয় সেনগুপ্ত ও তাঁর দলের

23 September, 2026 1:43 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: “মহিষাসুরমর্দ্দিনী”। বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে এক চিরন্তন আবেগ ও নস্টালজিয়ার নাম। এই কালজয়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কলকাতার বাঙালি, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এবং সংস্কৃতিমনস্ক শিল্পী সুপ্রিয় সেনগুপ্ত। তাঁর উদ্যোগেই প্রচলিত “মহিষাসুরমর্দ্দিনী”-র ভাব, আধ্যাত্মিক আবহ এবং পরিবেশনার ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে এটিকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়। এবার তাঁর সেই সাধনা যেন আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পেল। এই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল গত ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ হলে অনুষ্ঠিত বিশেষ অনুষ্ঠান। রামকৃষ্ণ মিশনের আমন্ত্রণে সন্ধ্যা ৬টায় সেখানে পরিবেশিত হয় সুপ্রিয় সেনগুপ্তের “আন্তর্জাতিক রূপে মহিষাসুরমর্দ্দিনী”। প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা পরিবেশনাটি উপভোগ করেন, আর অনুষ্ঠান শেষেও তাঁদের মধ্যে এর প্রভাব স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়।

শ্রী বাণীকুমারের রচনা, শ্রী পঙ্কজ কুমার মল্লিকের সংগীতায়োজন এবং শ্রী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অনন্য কণ্ঠে স্তোত্রপাঠ—এই সম্মিলিত পরিবেশনা বহু প্রজন্ম ধরে বাঙালির দুর্গোৎসবের সূচনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। স্ত্রোত্র বা গান নয়, আলেখ্যগুলিকে বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন তিনি। সুপ্রিয় সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে তিনি এই সৃষ্টির ‘কপিরাইট’ অর্জন করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের এই সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর সৃষ্টি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসেও স্থান পেয়েছে। পরবর্তীকালে তিনি পেয়েছেন প্রাইড অফ ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ডও। এই অনুষ্ঠানে যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন—তবলায় শ্রী তপন দাস, কি-বোর্ডে শুভ্রেন্দু বাবু ও ঈপ্সিতা সেনগুপ্ত, বাঁশিতে শ্রী প্রবীর দাস এবং পারকাশনে কিংশুক বাবু। কোরাস কণ্ঠে ছিলেন অহনা চক্রবর্তী, স্বরাজ মণ্ডল ও ঈপ্সিতা সেনগুপ্ত। মূল সংগীত পরিবেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সুপ্রিয় সেনগুপ্তের দীর্ঘদিনের সহযোগী সংযুক্তা চক্রবর্তী ও সুবীর চন্দ। এই দুই শিল্পীকে নিয়ে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই ধারাবাহিকভাবে এই পরিবেশনা নিয়ে কাজ করে চলেছেন সুপ্রিয়বাবু।

আরও পড়ুন: সেরা বাংলা ছবির জাতীয় পুরস্কার পেলেন অঞ্জন দত্ত

গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের এই অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে যায়। এদিন পরিবেশনা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ ও প্রশংসা লক্ষ্য করা যায়। মহালয়ার চেনা আবেগকে নতুন ভাষা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা উপস্থিত সংস্কৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এদিকে সুপ্রিয় সেনগুপ্তের পরবর্তী পরিবেশনার প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, আগামী ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, দুর্গা চতুর্থীর দিন, দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুর অঞ্চলের দক্ষিণপাড়া অধিবাসীবৃন্দের দুর্গোৎসব মঞ্চে তিনি ও তাঁর দল ‘টিম কারিগরি কবিয়াল’ মহিষাসুরমর্দ্দিনী পরিবেশন করবেন। তবে সেই অনুষ্ঠানে পরিবেশনাটি হবে বাংলা ভাষায়। মহিষাসুরমর্দ্দিনীর ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে এর সাংস্কৃতিক আবেদনকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যেই সুপ্রিয় সেনগুপ্তের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদন

UTSAB RC