স্ট্যানফোর্ড সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় উজ্জ্বল যাদবপুর ও আইআইটি খড়্গপুর
সংবাদদাতা, কলকাতা: উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বের দরবারে ফের উজ্জ্বল বাংলার নাম। গবেষণার জগতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের ক্ষেত্রে ফের নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও আইআইটি খড়গপুর। রাজ্যের আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় ঠাঁই পেল সেরার তালিকায়। সব সময় আন্দোলন-বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে সেরা দশে। সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ডস টপ’ ২ শতাংশ সায়েন্টিস্টস তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ জন গবেষক। এছাড়াও খড়্গপুর আইআইটি-র ৯৭ জন গবেষক রয়েছে এই তালিকায়।
যাদুবপর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে মাঝেমধ্যেই বিতর্কের ঝড় ওঠে। সেখানকার পড়ুয়াদের কখনও ‘দিমাগি নকশাল’, ‘জেহাদি’, ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ বলে আক্রমণ করতে শোনা গেছে বহুজনকে। কখনও ‘নেশার আতুড় ঘর’ বলে দাগিয়ে দিলেও বরাবরই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬ সালের স্ট্যানফোর্ডের এই র্যাঙ্কিংয়েও তার ব্যতিক্রম নয়। এই তালিকায় যাদবপুরের গবেষকের সংখ্যা ৪৮। বর্তমান সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরে এই সাফল্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
পাশাপাশি এই তালিকায় আইআইটি মাদ্রাজের ৮১ জন এবং আইআইটি বম্বের ৭৩ জন গবেষক রয়েছেন তালিকায়। অন্যদিকে, আইআইটি রুরকির ৬২ জন এবং আইআইটি কানপুরের ৫৫ জন গবেষকও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ারের ২০২৬ সালের তালিকাটি মূলত গবেষকদের গোটা কর্মজীবনের গবেষণার প্রভাবের নিরিখে মূল্যায়ণ করা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই তালিকায় দেশের একাধিক নামী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে যাদবপুর। যেখানে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮ জন এবং আইআইটি গুয়াহাটির ৩৭ জন এমনকী, দেশের প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের ৪০ জন গবেষক এই তালিকায় রয়েছেন। ২০২৬ সালের এই তালিকায় ভারতের মোট ১,১৮৫টি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ৩,৮৯৮ জন গবেষক জায়গা পেয়েছেন। শুধু আইআইটি কিংবা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় রয়েছে। কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের ২৪ জন গবেষকও জায়গা পেয়েছেন। অন্যদিকে, ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ৩৫ জন, বিটস পিলানির ২৪ জন এবং অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন গবেষক তালিকায় রয়েছেন।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের তৈরি এই তালিকা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার। গবেষকদের কাজের প্রভাব ও বৈজ্ঞানিক অবদান মূল্যায়নের জন্য ব্যবহার করা হয় স্কোপাস ডেটাবেসের তথ্য। মূলত গবেষণাপত্র কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, গবেষকের এইচ-ইনডেক্স, যৌথ গবেষণায় অবদান এবং গবেষণাপত্রে লেখক হিসেবে অবস্থান সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। মোট ২২টি প্রধান বিজ্ঞান বিভাগ এবং ১৭৪টি উপবিভাগের ভিত্তিতে গবেষকদের কাজ বিশ্লেষণ করা হয়। এক্ষেত্রে দুটি পৃথক তালিকা প্রকাশ করা হয়। একটি গবেষকদের গোটা কর্মজীবনের গবেষণার প্রভাবের ভিত্তিতে এবং অন্যটি নির্দিষ্ট এক বছরের গবেষণার প্রভাবের ভিত্তিতে।
