দুর্গাপুজোয় বুক স্টল করা নিয়ে সিপিএমকে হাইকোর্টের পরামর্শ— কালীপুজোয় স্টল দিন
সংবাদদাতা, কলকাতা: দুর্গাপুজোয় বামেদের বুক স্টল দেওয়া নিয়ে কিছুদিন আগেই কড়া মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। বলেছিলেন, দুর্গাপুজো না লিখলে বামেদের বইয়ের স্টল করার অনুমতি মিলবে না। এবার নৈহাটি ও বনগাঁয় বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আদালতে গেল সিপিএম। পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ পার্টি। তবে মঙ্গলবারও সেই মামলাকে জরুরি মামলার অনুমতি দিলেন না বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোয় বনগাঁ ও নৈহাটিতে বুক স্টল করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম। সোমবার দ্রুত শুনানির আর্জি জানায় তারা। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দেন। তা শুনে মামলাকারীদের আইনজীবী বিচারপতির কাছে আবেদন করেন, পুজো এসে গেল, দয়া করে মামলাটা ছেড়ে দিন। আমরা অন্য এজলাসে চেষ্টা করব। কারণ, পুজোর পরে এই মামলার আর গ্ৰহণযোগ্যতা থাকবে না। তা শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, আগামীকাল তথা মঙ্গলবার মামলা ছেড়ে দেবেন। এবং মামলাকারীদের বলেন, দুর্গাপুজোয় না হলে কালীপুজোতে বুক স্টল করুন।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজো কমিটিগুলোকে হুঁশিয়ারি দেন, যদি সিপিএম পার্টি তথা বামেরা তাদের বুকস্টলে দুর্গাপূজা শব্দের পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করে, তবে যেন তাদের বুক স্টল করতে দেওয়া না হয়। তিনি বামেদের এ প্রসঙ্গে আক্রমণ করে বলেন, বামপন্থীরা এই উৎসবের ধর্মীয় ও সনাতন চরিত্রকে খাটো করতে এই শব্দ ব্যবহার করে এবং বুক স্টলে স্বামী বিবেকানন্দ বা রামকৃষ্ণের মতো ভারতীয় মনীষীদের বাদ দিয়ে কার্ল মার্ক্স ও লেনিনের মতো বিদেশি কমিউনিস্ট নেতাদের বই বিক্রি করে। বামেদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশকে ফ্যাসিবাদী বলে আক্রমণ করা হয়। এবং মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে জানায়, পুজোয় তারা বুকস্টল করবে। মুখ্যমন্ত্রী পারলে আটকে দেখাক। অভিযোগ উঠেছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারির শিকার বামেরা। এই বিষয়ে আরও অভিযোগ যে, পুজোতে কল্যাণী এবং বনগাঁয় বুকস্টল করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তাই অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। সিপিএম অভিযোগ করে, বনগাঁয় যশোর রোডে দীর্ঘদিন ধরে পুজোয় বুক স্টল করেন বামেরা। এবারও তাঁরা পুলিশ প্রশাসনকে স্টল করার কথা জানিয়েছিলেন। রাস্তার পাশে কাঠ, বাঁশ জড়ো করে রাখা ছিল। কিন্তু, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের লোকেরা সেইসব সরিয়ে তাঁদের স্টল তৈরির কাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করতে গেলে সিপিএম নেতাদের মারধর করা হয়। দ্রুত কোর্টের নির্দেশ না এলে বিকল্প ভাবেই বইয়ের স্টল করার পরিকল্পনা করছে বাম নেতৃত্ব।
