বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

Mohun Bagan: ৩-১ জিতেও স্বস্তি কোথায় মোহনবাগানের? রেলওয়ে ম্যাচে চোখে পড়ল বড়সড় খামতি

30 August, 2026 2:21 AM Arko Banerjee
শেয়ার করুন

কলকাতা: স্কোরবোর্ডে তিন গোল, কিন্তু সুযোগ নষ্টের হিসাবটা বেশ লম্বা। রেলওয়ের গোলকিপারকে একাধিকবার পরীক্ষায় ফেলেও গোল এল মাত্র তিনটি। সুপার সিক্সের আগে বাস্তব রায়ের দলের জন্য সেখানেই লুকিয়ে সতর্কবার্তা।

মোহনবাগান জিতেছে। তিন পয়েন্টও এসেছে। কলকাতা লিগের সুপার সিক্সের দৌড়েও সবুজ-মেরুন বেশ ভালো জায়গায়। কিন্তু শনিবার রেলওয়ে এফসির বিরুদ্ধে ৩-১ জয়ের পর শুধু স্কোরলাইনটা দেখলে ম্যাচের আসল ছবিটা ধরা যাবে না। কারণ, ৯০ মিনিটে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ছিল রেলওয়ের রক্ষণ নয়, নিজেদের ফিনিশিং। একের পর এক সুযোগ এসেছে, কিন্তু শেষ শটটাই বারবার আটকে গিয়েছে। এমনকি একটা সময় রেলওয়েই এগিয়ে গিয়েছিল।

এই ম্যাচের একটা চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন রেলওয়ের গোলরক্ষক সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। কিয়ান নাসিরি, মনবীর সিং, সাহাল আবদুল সামাদের মতো সিনিয়র দলের ফুটবলারদের সামলাতে হয়েছে তাঁকে। প্রথমার্ধে একাধিকবার বাগানের আক্রমণ ভোঁতা করেছেন সুদীপ্ত। ২০ মিনিটের কাছাকাছি জোড়া সুযোগের মধ্যে একটি গোললাইন থেকে ফিরে আসে। তার পরেও সুযোগ এসেছে। ২৮ মিনিটে কিয়ান নাসিরির সামনে সুযোগ ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে গোল হয়নি। রেলওয়ের গোলকিপার তখন কার্যত একাই দলকে ম্যাচে টেনে রাখছিলেন। অথচ সেই চাপের মধ্যেই ৪১ মিনিটে উমেশ মারান্ডির গোলে পিছিয়ে যায় মোহনবাগান।

সেখানেই ম্যাচের আসল মোড়। বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি পেয়ে যায় মোহনবাগান এবং মনবীর সিং ভুল করেননি। ১-১। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর মোহনবাগান অবশ্য আর আগের মতো ছন্নছাড়া ছিল না। আক্রমণের গতি বাড়ল, বল ঘোরানোয় এল ধারাবাহিকতা। ৫৩ মিনিটে কিয়ান নাসিরির পাস থেকে রবিলাল মাণ্ডির গোল সেই চাপের পুরস্কার। কিন্তু রেলওয়ে তখনও ম্যাচ ছাড়েনি। ৫৫ মিনিটে তারক হেমব্রমের সামনে প্রায় খোলা রাস্তা ছিল সমতা ফেরানোর। শটও নিয়েছিলেন। সেখানেই মোহনবাগানের হয়ে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—গোলরক্ষক সৈয়দ জাহিদ হোসেনের দুর্দান্ত সেভ। ওই গোল হয়ে গেলে ম্যাচের গল্পটা অন্য রকমও হতে পারত।

আরও পড়ুন: Lee Erwin: হিজাজির প্রাক্তন সতীর্থই বাগানে রবসনের বিকল্প, পেত্রাতোস বা কামিংসের অভাব পূরণ হবে?

আরও পড়ুন: Kolkata Derby: যার পায়ে চূর্ণ সবুজ-মেরুন দম্ভ, চেনেন ইস্টবেঙ্গলের নতুন নায়ক এডমন্ডকে?

শেষ পর্যন্ত রেলওয়ের প্রতিরোধ ভাঙেন পরিবর্ত হিসাবে নামা সুহেল ভাট। ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে তাঁর হেডেই ৩-১। অর্থাৎ মোহনবাগানের তিন গোলদাতার মধ্যে দু’জন এলেন ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। সেটাও একটা বার্তা। বেঞ্চ থেকে যে বিকল্প পাচ্ছেন বাস্তব রায়, সেটাই শেষ দিকে পার্থক্য গড়ে দিল। আর সেই কারণেই শনিবারের জয়টা যতটা স্বস্তির, ততটাই শিক্ষার। ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান সুপার সিক্সের দিকে এগোচ্ছে ঠিকই। কিন্তু আরও শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এত সুযোগ নষ্ট করার বিলাসিতা চলবে না। রেলওয়ের বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট মিলেছে, তবে সেই তিন পয়েন্টের সঙ্গে একটা প্রশ্নও রেখে গেল ম্যাচ—সুযোগ যখন আসছে, তখন আরও নির্মম হতে পারবে তো মোহনবাগান?

প্রতিবেদন

Arko Banerjee