Premier League: অ্যানফিল্ডে ফের হোঁচট লিভারপুলের, টটেনহ্যামকে উড়িয়ে জয়ের স্বাদ নিউক্যাসলের
লিভারপুল: দু’বার পিছিয়েও এক পয়েন্ট বাঁচাল লিভারপুল। মুনিয়োজের গোলে স্বস্তি এল ঠিকই, কিন্তু ইরাওলার দলের সমস্যা মিটল না। অন্য দিকে টটেনহ্যামকে হারিয়ে মরসুমের প্রথম জয় নিউক্যাসলের।
অ্যানফিল্ডে শেষ বাঁশি বাজার পর লিভারপুলের ফুটবলারদের মুখে স্বস্তি ছিল, উচ্ছ্বাস নয়। দু’বার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচটা হারেননি ভ্যান ডাইকরা, কিন্তু ঘরের মাঠে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র যে প্রত্যাশিত ফল নয়, সেটা অস্বীকার করার উপায়ও নেই। অন্য দিকে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে ২-০ জিতে রীতিমত চমকে দিল নিউক্যাসল। শুধু তিন পয়েন্টই পেল না, শুরুতেই বুঝিয়ে দিল, মরশুমের শুরুতে একাধিক তারকা দল ছাড়লেও তার প্রভাব বাকিদের উপর পড়েনি।
অ্যানফিল্ডে ফরেস্টকে আটকাতেই পারেনি লিভারপুল। ২৪ মিনিটে ড্যান এনডোয়ের গোলে এগিয়ে যায় অতিথিরা। প্রথমার্ধে লিভারপুলের আক্রমণে সেই পরিচিত ধারটা দেখা যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আলেকজান্ডার ইসাক গোল করে ম্যাচে ফেরান স্বাগতিকদের। মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো চাপ বাড়িয়ে জয় তুলে নেবে লিভারপুল। তা হল না। আলিসনের ফাউল থেকে পাওয়া পেনাল্টিতে মরগ্যান গিবস-হোয়াইট আবার এগিয়ে দেন ফরেস্টকে। তখন অ্যানফিল্ডে ম্যাচটা যেন লিভারপুলের হাত থেকে বেরিয়েই যাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: Premier League: চেরকির জাদু, হালান্ডের জোড়া—প্যালেসের ঘরে গোলের বন্যা ম্যান সিটির
আরও পড়ুন: Premier League: ৩১ সেকেন্ডের ঝড় ও রক্ষণের শঙ্কা নিয়ে চেলসিতে অলন্সো-যুগের সূচনা
শেষ পর্যন্ত ভিক্টর মুনিয়োজের পা থেকে এল স্বস্তি। ৮২ মিনিটে গোল করে ২-২ করেন তিনি। ম্যাচের শেষ আট মিনিটে লিভারপুল চেষ্টা করেছে, কিন্তু জয়সূচক গোল আর আসেনি। ইরাওলার জন্য তাই শুরুটা এখনও জটিল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও দল যে লড়াই ছাড়েনি, সেটা ইতিবাচক। কিন্তু একই সঙ্গে রক্ষণে বারবার জায়গা ছেড়ে দেওয়া এবং মাঝমাঠ থেকে আক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ছবিটাও স্পষ্ট। বড় দল হিসেবে লিভারপুলের কাছ থেকে শুধু ফিরে আসার ক্ষমতা নয়, ম্যাচটা শুরু থেকে নিজেদের হাতে রাখার প্রত্যাশাই বেশি।
টটেনহ্যামের অবস্থা আরও চিন্তার। ঘরের মাঠে বল ছিল তাদের দখলে, কিন্তু নিউক্যাসলের বক্সের সামনে গিয়ে যেন সব হিসাব গুলিয়ে গেল। সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পাস বা শট—কোনওটাই ঠিকঠাক হল না। নিউক্যাসল অপেক্ষা করেছে নিজেদের সময়ের জন্য। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে ম্যাচের দরজা খুলে যায়। পরে ইয়োয়ানে উইসার গোলে ব্যবধান ২-০। এখানেই ম্যাচের আসল পার্থক্য—টটেনহ্যাম বল নিয়ে বেশি খেললেও নিউক্যাসল সুযোগ পেয়েছে এবং কাজে লাগিয়েছে। দুই ম্যাচে টটেনহ্যামের গোলসংখ্যা এখনও শূন্য। দি জ়েরবির দলের সামনে তাই দ্রুত সমাধান খোঁজার চাপ বাড়ছে।
অন্য দুই ম্যাচে বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে ১-১ ড্র করেছে এভারটন। ৪১ মিনিটে অ্যালেক্স স্কটের গোলে এগিয়ে ছিল বোর্নমাউথ, কিন্তু যোগ করা সময়ে জেমস টারকোভস্কির গোলে পয়েন্ট বাঁচায় এভারটন। আর কোভেন্ট্রি সিটিকে ১-০ হারিয়ে মরসুমের দারুণ শুরু করেছে হাল সিটি। ৮২ মিনিটে লিয়াম মিলারের গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট—শুরুতেই নজর কেড়ে নিয়েছে হাল।
