বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

মহাকাশ কেন্দ্রে ফসল ফলিয়ে রান্না করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেনন

29 August, 2026 8:14 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

লোপামুদ্রা ভৌমিক
পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার ওপরে মহাকাশ স্টেশনে টমেটো চাষ করে চমকে দিয়েছিলেন চীনা মহাকাশচারীরা। মাত্র কিছুদিন আগেই মহাকাশ স্টেশনে ধান ফলানোর ছবি রীতিমত ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই পথেই আরও একধাপ এগোলেন নাসার দুই নভশ্চর অনিল মেনন ও তাঁর সহযাত্রী জেসিকা মেয়ার। শুধু ফসল ফলানোই নয়। অনিল–জেসিকা জুটি মহাকাশ স্টেশনে চাষ করা শাকপাতা দিয়ে সেখানে বসেই রেঁধে ফেললেন সুস্বাদু পদ!‌ দুই বিজ্ঞানীর এই সাফল্যে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার পাশাপাশি গর্বিত ভারতও। কারণ, মহাকর্ষহীন পরিবেশে ইতিহাস গড়ার অন্যতম দাবিদার অনিল মেনন আদতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন অনিল। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মহাকাশ স্টেশনের ভেতরে ফলানো ব্রকোলি এবং ওয়াসাবি মাস্টার্ড শাকের পাতা কেটে তুলছেন তিনি এবং জেসিকা। ভিডিও–তে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ওই সবজি রান্না করে খেয়েও দেখেছেন তাঁরা। বলেছেন, ‘‌আমাদের এই পর্বে রইল ‘ফার্ম–টু–টেবিল’—সহজ এবং সুস্বাদু খাবার। আমরা কিছু পাতা তুলে পরীক্ষা করে দেখলাম। মহাকাশে এখনও পর্যন্ত আমাদের রান্না করা খাবারের মধ্যে এটি সেরা।’‌ দুই নভশ্চর বলেছেন, ওই সবজির স্বাদ একেবারেই পৃথিবীতে ফলা সবজিরই মতো। ভিডিওতে অনিল মেননকে মজা করে বলতে শোনা যায়, ‘‌এটি দেখলে ‘দ্য মার্শিয়ান’ সিনেমার নায়ক মার্ক ওয়াটনিও বেশ গর্ববোধ করতেন!’‌
প্রায় একমাস ধরে ‘ভেজি প্ল্যান্ট–গ্রোথ চেম্বার’–এর মধ্যে এই পুরো পরীক্ষাটি করা হয়েছিল। মহাকর্ষহীন পরিবেশে উদ্ভিদের প্রতিক্রিয়া ও বেড়ে ওঠার হালহকিকত বোঝার জন্যই ছিল বিজ্ঞানীদের এই উদ্যোগ। এই সাফল্য মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিল। যা চাঁদ, মঙ্গলসহ বিভিন্ন গ্রহে অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। এর ফলে মহাকাশ কেন্দ্রে যে সব মহাকাশচারী দীর্ঘদিন থেকে গবেষণা করেন, তাঁদের মাসের পর মাস শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার একঘেঁয়েমি যেমন কাটবে, ঠিক তেমনই টাটকা
সবুজ শাকসবজি খেলে নভশ্চরদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতিতেও অনেকটাই রাশ টানা যাবে। সব থেকে বড় ব্যাপার হল, পৃথিবী থেকে মহাকাশচারীদের জন্য তিন মাস অন্তর রকেট ভর্তি খাবারদাবার পাঠানোর খরচ ও ঝামেলাও অনেকটা কমবে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেনন রাশিয়ার সয়ুজ এমএস–২৯ মহাকাশযানে চড়ে গত জুলাইতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে পাড়ি দিয়েছিলেন। এটিই তাঁর প্রথম মহাকাশ স্টেশনে পা রাখা। তাঁর সঙ্গে একই রকেটে মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিলেন কাজাকাস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম, রাশিয়ান মহাকাশচারী পিয়োতর দুব্রভ এবং আনা কিকিনার। ২০২৭ সালে তাঁদের পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা। ‌

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik