বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

Kolkata Derby: যার পায়ে চূর্ণ সবুজ-মেরুন দম্ভ, চেনেন ইস্টবেঙ্গলের নতুন নায়ক এডমন্ডকে?

24 August, 2026 3:09 AM Arko Banerjee
শেয়ার করুন

কলকাতা: ৪-১। স্কোরলাইনটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ঠিক কী তাণ্ডব ঘটেছে। প্রথমার্ধেই মোহনবাগানের জালে চার-চারটে গোল, যার তিনটেই এল এডমন্ড লালরিন্দিকার পা থেকে। দীর্ঘ ২২ বছরের খরা কাটিয়ে ডুরান্ড ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। আর সেই ঐতিহাসিক জয়ের রাতে ডার্বির আকাশে জ্বলজ্বল করে জ্বলল এক ভারতীয় ফুটবলারের নাম।

ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক ও নতুন রেকর্ড

এডমন্ড লালরিন্দিকা—নামটা হয়তো শনিবার পর্যন্ত অনেকের কাছেই অতটা চেনা ছিল না। তবে রবিবারের পর কলকাতা ডার্বির ইতিহাসে এই নাম স্থায়ীভাবে খোদাই হয়ে গেল। ২৭ বছরের এই ফরোয়ার্ডের হ্যাটট্রিকেই চূর্ণ হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিরোধ। কলকাতা ডার্বির ইতিহাসে তিনি ষষ্ঠ এবং ইস্টবেঙ্গলের চতুর্থ ভারতীয় হ্যাটট্রিককারী। তবে ডুরান্ড কাপের ডার্বি ইতিহাসে তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি এক ম্যাচে তিন গোল করার বিরল নজির গড়লেন।

আরও পড়ুন: Premier League: প্রিমিয়ার লিগে রুদ্ধশ্বাস ড্রামা: শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে জয় সিটির, নিউক্যাসলে স্তব্ধ লিভারপুল

আরও পড়ুন: ২২ বছরের ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার হাবাসের, সূচি-ক্লান্তি ভুলে ট্রফি ধরে রাখতে মরিয়া দিলম্পেরিস

ভাইচুংয়ের স্মৃতির পুনরাবৃত্তি

ডার্বিতে শেষ ভারতীয় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন কিয়ান নাসিরি (২০২২)। কিন্তু লাল-হলুদ জার্সিতে এই স্বাদ পেতে লেগে গেল প্রায় তিন দশক। ১৯৯৭ সালের সেই অবিস্মরণীয় ডার্বিতে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, নায়ক ছিলেন ভাইচুং ভুটিয়া। ২৭ বছর পর যুবভারতীর সেই একই মঞ্চে, একই ব্যবধানের জয়ে ইতিহাস ফেরালেন এডমন্ড।

তারকাদের ভিড়ে এক স্বদেশির দাপট

ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম দামি ও তারকাখচিত স্কোয়াড মোহনবাগান। তবে জেমি ম্যাকলারেন, মিগুয়েল অথবা আলবার্ত রদ্রিগেজের মত হাই-প্রোফাইল বিদেশি তারকাদের ভিড়ে আলোটা কেড়ে নিলেন এক ভারতীয় ফরোয়ার্ডই। ১০ মিনিটে বিপিন সিংয়ের গোলে লাল-হলুদ ঝড় শুরু হওয়ার ঠিক পরেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন এডমন্ড। ১২ মিনিটে তাঁর প্রথম গোল, ২২ মিনিটে একক দক্ষতায় দ্বিতীয় গোল। ৩৩ মিনিটে মনবীর সিংয়ের গোলে মোহনবাগান ব্যবধান কমালেও সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। বিরতির ঠিক আগে ৪৪ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এডমন্ড। প্রথমার্ধেই ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না হলেও ম্যাচের দখল পুরোপুরি ছিল লাল-হলুদের হাতেই।

হাবাসের মোক্ষম চাল

এই ঐতিহাসিক রাত শুধু এডমন্ডের নয়, সমান অবদান স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের। প্রাক্তনের বিরুদ্ধে বদলার মঞ্চে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর মগজাস্ত্রে এখনও এতটুকুও মরচে ধরেনি। মোহনবাগানের ফাঁকফোকর চিনে নিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলার যে চাল তিনি চেলেছিলেন, তার কোনো জবাব ছিল না সবুজ-মেরুন শিবিরের কাছে।

২০০৪ সালের পর ২০২৬—দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষে ফের ডুরান্ড জয় ইস্টবেঙ্গলের। কাকতালীয়ভাবে সেবারও ফাইনালের প্রতিপক্ষ ছিল মোহনবাগান। এডমন্ড লালরিন্দিকা তাই শুধু এক ফাইনালের নায়ক নন, ইস্টবেঙ্গলের ট্রফি-খরা ও হাবাসের প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্যে তিনি এক নতুন ইতিহাস।

প্রতিবেদন

Arko Banerjee