বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

২২ বছরের ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার হাবাসের, সূচি-ক্লান্তি ভুলে ট্রফি ধরে রাখতে মরিয়া দিলম্পেরিস

22 August, 2026 7:27 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

কলকাতা : ঠিক তিন বছর পর আবার ডুরান্ড কাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারতীয় ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল এফসি। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে ফের দ্বিখণ্ডিত হতে চলেছে তিলোত্তমা। সেমিফাইনালের কঠিন স্নায়ুযুদ্ধে টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে টিকিট কেটেছে দুই প্রধানই। কিন্তু ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচের আগে দুই শিবিরের আবহ ও মানসিক অবস্থা একেবারে বিপরীত মেরুতে। একদিকে ২২ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ডুরান্ড ট্রফি ঘরে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের সামনে, অন্যদিকে চরম ক্লান্তি ও ভ্রমণক্লেশের বাধা ঠেলে ট্রফি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের।

ডুরান্ডের গ্রুপ পর্বে সেরা দল হয়েও সেমিফাইনাল খেলতে শিলংয়ে উড়ে যেতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। সেখানে সেমিফাইনালের গণ্ডি টপকালেও আসল দুর্ভোগ শুরু হয় কলকাতায় ফেরার পথে। মেঘালয়ের রাজধানী থেকে কলকাতায় ফেরার বিমানের টিকিট সমস্যায় চরম হয়রানির শিকার হতে হয় পুরো দলকে। শারীরিক ক্লান্তি আর দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই ঘাড়ের ওপর চলে এসেছে ডার্বির মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ। এমনকি রবিবারের মেগা যুদ্ধের আগে দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা বা কৌশলগত অনুশীলনের উপযুক্ত সময়ও পাননি বাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলম্পেরিস।

সাংবাদিক সম্মেলনে টুর্নামেন্টের আয়োজকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন এই গ্রিক কোচ। ক্ষুব্ধ দিলম্পেরিস সরাসরি জানান, মাত্র ছয় দিনের মধ্যে তিন-তিনটি ম্যাচ খেলতে হওয়া খেলোয়াড়দের জন্য চরম অত্যাচার। “গ্রুপ পর্বে প্রথম ও সেরা দল হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তাতে সত্যিই হতাশ। শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে ম্যাচ খেলে ফেললেই তো হয় না! গতকাল আমাদের কোন অনুশীলনের সুযোগই ছিল না,” ক্ষোভের সুরে বলেন বাগান কোচ। অবশ্য গ্রুপ পর্বে ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকে ফাইনালে বাড়তি সুবিধার আশা করছেন না তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “দুটি ম্যাচ সম্পূর্ণ আলাদা। ফাইনালে আর আগামিকাল বলে কিছু নেই, এটা একেবারেই জেতার ম্যাচ।”

অন্যদিকে, লাল-হলুদ শিবিরের সামনে এখন দু’টি বিশাল লক্ষ্যের সমীকরণ—একদিকে দীর্ঘ ২২ বছরের ডুরান্ড খরা মেটানো, আর অন্যদিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়া। ২০০৪ সালের ডুরান্ড ফাইনালে শেষবার মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দুই দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও সেই ট্রফি আর ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে ফেরেনি। তার ওপর ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলে লাল-হলুদ বাহিনী মানসিকভাবে অনেকটা তাজা ও সতেজ অবস্থায় মাঠে নামছে।

তবে এমন আবেগের ম্যাচেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখাকেই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। অভিজ্ঞ স্প্যানিশ কোচের মতে, ডার্বি মানেই স্রেফ লড়াই নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার বড় পরীক্ষা। তিনি বলেন, “এই ম্যাচে সমর্থকদের আবেগ ১০০ শতাংশ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ফুটবলারদের সেই আবেগের মাত্রা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। ৯০ মিনিটের মধ্যে সঠিক মুহূর্তগুলো চিনে নিয়ে কৌশলগত ও মানসিকভাবে নিখুঁত ফুটবল খেলাই আসল কাজ।”

ফাইনালের মহাযুদ্ধে নামার আগে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে অবশ্য চোটের বড় ধাক্কা রয়েছে। চলতি ডুরান্ডে সিআইএসএফের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করা গতিময় ফরোয়ার্ড পিভি বিষ্ণু সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও অনিশ্চিত। পাশাপাশি পাওয়া যাবে না এফিয়ংকেও। বিষ্ণুর জায়গায় প্রথম একাদশে খেলতে পারেন বিপিন সিং অথবা জেসিন টিকে। এছাড়া প্রথম সারির বিদেশি স্ট্রাইকার ও সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ছাড়া মাঠে নামার চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই।

তবে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অজুহাতের রাস্তা হাঁটেননি হাবাস। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি কঠিন হলেও আমি দলের ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছি না। রেফারি, প্রতিপক্ষ বা স্ট্রাইকার না থাকা নিয়ে আমি কোনও অজুহাত দেব না।” প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করলেও ইস্টবেঙ্গল কোচ আত্মবিশ্বাসী যে প্রভসুখন সিং গিল ও লাচেনপারা ফাইনালে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলে দলের জয় নিশ্চিত করবেন।

সব মিলিয়ে রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল কেবল ট্রফির লড়াই নয়, এটি একদিকে ক্লান্তির বিরুদ্ধে অদম্য ইচ্ছাশক্তির লড়াই, অন্যদিকে ২২ বছরের পুরনো ইতিহাস নতুন করে লেখার ঐতিহাসিক সংগ্রাম। এখন নজর থাকবে যুবভারতীর সবুজ গালিচায় শেষ হাসি কে হাসে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee