বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

ডেরেককে সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, বেরিয়ে মুখ খোলেননি তৃণমূল সাংসদ

02 September, 2026 6:53 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের সামনে অশান্তির ঘটনায় অবশেষে কলকাতা পুলিশের শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। প্রথম নোটিসে হাজিরা না দিলেও পুলিশের দ্বিতীয় নোটিসের পর বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ থানায় পৌঁছন তিনি। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুপুর পৌনে ৩টে নাগাদ থানা থেকে বেরিয়ে আসেন ডেরেক। তবে বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যায়নি তাঁকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্তের অংশ হিসেবেই ডেরেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সিসি ক্য়ামেরার ভিডিওতে যাদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের পরিচয়, কী  ভূমিকা ছিল তা জানতে চাওয়া হয়।  কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের দফতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে বলে খবর। ঘটনার সময় ডেরেক ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনকেই ঘটনাস্থলে দেখা গিয়েছিল। গত ২৭ অগাস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরের উপরে থাকা তৃণমূলের নামাঙ্কিত একটি বিলবোর্ড খুলতে যায় কলকাতা পুরসভা। পুরসভার দাবি, ওই হোর্ডিংটি অনুমোদনহীন ছিল এবং বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল। পুলিশি সহায়তায় পুরকর্মীরা সেটি সরাতে গেলে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সরকারি আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট ৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে—দুটি পুলিশের তরফে এবং একটি কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি কর্মীদের উপর হামলা, বেআইনি জমায়েত এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ। মামলাগুলিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার নাম রয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডেরেককে প্রথমে সোমবার ৩১ অগস্ট দুপুরে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেদিন হাজিরা দেননি। তাঁর আইনজীবীর তরফে পুলিশের কাছে সময় চাওয়া হয়েছিল—নোটিস পাওয়ার পর প্রস্তুতির জন্য সময় কম থাকায় ওই দিন হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। পুলিশ সেই আবেদন গ্রহণ না করে তাঁকে ফের নোটিস পাঠিয়ে বুধবার হাজিরার নির্দেশ দেয়। দ্বিতীয় নোটিস মেনেই এ দিন থানায় যান তৃণমূল সাংসদ। ডেরেকের পাশাপাশি এ দিন একই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। এর আগে মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক নিজে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে তিনি পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, একটি সাইনবোর্ড সরানোর জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁর দাবি ছিল, ঘটনাটির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর দমন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, তদন্ত এখনও চলছে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে থানায় হাজিরার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে পুলিশ।

প্রতিবেদন

UTSAB RC