দেশের জল-সীমান্ত পাহারা দেবে মাছ, শত্রু ঢুকলেই ঝাঁঝরা করে দেবে গোল্ডেন ড্রাগন ফিশ
প্রযুক্তি দুনিয়ায় ফের চমক দেখাল চিন। এবার তারা তৈরি করেছে এমন এক রোবট মাছ, যা দেখতে ও চলাফেরায় প্রায় হুবহু আসল মাছের মতো। নাম দেওয়া হয়েছে BG-5 গোল্ডেন ড্রাগন ফিশ। গত ৯ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ের শৌগাং পার্কে অনুষ্ঠিত ২০২৬ চায়না ইন্টারন্যাশনাল ফেয়ার ফর ট্রেড ইন সার্ভিসেস (CIFTIS)-এ এই রোবটটি প্রথম জনসমক্ষে প্রদর্শিত হয়।
দেখতে যেমন, চলে তেমনই
এই রোবটটি তৈরি করেছে চিনা প্রতিষ্ঠান বোইয়াগংদাও মেরিন টেকনোলজি গ্রুপ। এর নকশা করা হয়েছে সোনালি রঙের অ্যারোওয়ানা মাছের আদলে। সাধারণ আন্ডারওয়াটার ড্রোনের মতো এতে কোনো প্রপেলার নেই, বরং একাধিক জয়েন্টযুক্ত নমনীয় লেজের সাহায্যে এটি পানির মধ্যে ঠিক মাছের মতো ঢেউয়ের গতিতে সাঁতার কাটে। এর ফলে এটি দেখতে অনেকটাই আসল মাছের মতো লাগে, এমনকি সাধারণ মাছের ঝাঁকের সঙ্গে মিশে গিয়েও চলাফেরা করতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
আকারে রোবটটি খুবই কমপ্যাক্ট — দৈর্ঘ্য ৬৪০ মিলিমিটার, প্রস্থ ২০৪ মিলিমিটার, উচ্চতা ৯০ মিলিমিটার এবং ওজন প্রায় ৩ কেজি। এটি সর্বোচ্চ ৫ মিটার গভীরতায় কাজ করতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ০.৬ মিটার/সেকেন্ড।
নিজে থেকেই পথ খুঁজে নেয়
এই রোবো-মাছের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর স্বয়ংক্রিয় চলাচল ক্ষমতা। প্রদর্শনীতে উপস্থিত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে চিনা সংবাদমাধ্যম জিমু নিউজ জানিয়েছে, এই রোবটকে আগে থেকে নির্দিষ্ট কোনো পথ প্রোগ্রাম করে দিতে হয় না। এতে থাকা সেন্সরের মাধ্যমে এটি নিজেই চারপাশের বাধা শনাক্ত করে এবং সে অনুযায়ী নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। এমনকী এর একটি সংস্করণ একাধিক রোবটকে একসঙ্গে সমন্বয় করে বড় এলাকা জুড়ে কাজ করারও ক্ষমতা রাখে বলে জানা গেছে।
শুধুই কি গবেষণা, নাকি সামরিক ব্যবহারও?
বোইয়াগংদাও প্রতিষ্ঠানটি এর আগে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে রোবো-শার্ক নামে একটি হাঙরের আদলে তৈরি বড় আকারের আন্ডারওয়াটার রোবট তৈরি করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিরক্ষা প্রকল্পে যুক্ত থাকার ইতিহাস থাকায় গোল্ডেন ড্রাগন ফিশ নিয়েও প্রতিরক্ষা মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর ছোট আকার, নিঃশব্দ চলাফেরা এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন ক্ষমতার কারণে এটি অগভীর জলাশয়ে নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা — যেখানে বড় আকারের আন্ডারওয়াটার যান ব্যবহার করা কঠিন।
তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রযুক্তি পরিদর্শন, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, উদ্ধার অভিযান এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো স্থাপনায় ব্যবহারের জন্যও উপযোগী।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া সমাজমাধ্যমে
এই রোবো-মাছের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়াও হয়েছে বিভিন্ন রকম। কেউ কেউ চিনের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে এর সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তি ও নজরদারির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে, বায়োমিমেটিক রোবোটিক্সের ক্ষেত্রে চীনের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা — দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
