অগ্নিকাণ্ড রুখতে শেঠ শ্রীলাল মার্কেটে ‘অগ্নি-সেফ’ কর্মসূচি
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: জেলার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা শেঠ শ্রীলাল মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় অভিনব উদ্যোগ শেঠ শ্রীলাল মার্কেট মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও শেঠ শ্রীলাল মার্কেট ইউথ ফোরামের। আগুন লাগার ঘটনা যাতে বড় আকার নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে• জন্য মার্কেটজুড়ে চালু করা হল ‘অগ্নি–সেফ’ কর্মসূচি। রবিবার এই অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম বসানো ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় আগরওয়াল জানান, গত তিন বছর ধরেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অতীতের বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকেই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে শেঠ শ্রীলাল মার্কেটের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ গলিতে মোট ১০টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বসানো হচ্ছে।শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নয়, আগুনের সময় উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধোঁয়া প্রতিরোধী মুখোশ, অগ্নিনিরোধক বালতি, অগ্নিনিরোধক কম্বল ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামও রাখা হচ্ছে।অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ মুখোশ ব্যবহার করে ধোঁয়ায় ভরা পরিবেশেও নির্দিষ্ট সময় ধরে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হবে।
ইতিমধ্যেই মার্কেটের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাকে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, এই অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম শুধুমাত্র শেঠ শ্রীলাল মার্কেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাশের হংকং মার্কেট কিংবা বিধান মার্কেটে কোনও অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে মার্কেট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনে এই সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবে। আগামী দিনে দমকল বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তার মাধ্যমে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই প্রশিক্ষিত ‘অগ্নিযোদ্ধা’ তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারজন স্বেচ্ছাসেবক চাওয়া হলেও ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে অন্তত ১০ জনকে প্রস্তুত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন সঞ্জয় আগরওয়াল। অনুষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধুমাত্র প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে ব্যবসায়ীদের নিজেদের উদ্যোগে এই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রস্তুতি ও সচেতনতা তৈরি করা গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব। শেঠ শ্রীলাল মার্কেটের এই উদ্যোগ আগামী দিনে শহরের অন্যান্য বাজারগুলির কাছেও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
