আদানি গোষ্ঠীর ‘শারদ সম্মান’! আটটি পুজো পাবে এন্ট্রি, শুক্রবারই আবেদনের শেষ দিন
সংবাদদাতা, কলকাতা: দুদিন আগে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে মুম্বইয়ে গিয়ে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবারই রাজ্যে এলেন গৌতম আদানি। নিউটাউনে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন তিনি। উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা আদানি গোষ্ঠীর। তার আগেই বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে জুড়ে গেল আদানি গোষ্ঠীর নাম। একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে তাঁরা। কলকাতা, বিধাননগর এবং দক্ষিণ দমদম এলাকার বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলির জন্য ‘প্রিভিউ এডিশন’ তৈরি করা হয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, মোট আটটি পুজোকে বেছে নেবে তাঁরা। ওই ক্লাবগুলিকে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মনোনীত শিল্পী পাবেন ১০ লক্ষ টাকা। মনোনীত পুজো আয়োজক পাবে ১৫ লক্ষ টাকা। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে।
শুক্রবার রাতের মধ্যেই আদানি গোষ্ঠীর ওয়েবসাইটে বাধ্যতামূলক তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে। একটি বারোয়ারি পুজোর হয়ে একজন শিল্পীই মনোনয়ন পাঠাতে পারবেন। শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পুজো কলকাতা পুরনিগম, বিধাননগর পুরনিগম অথবা দক্ষিণ দমদম পুরসভার এলাকার মধ্যে হতে হবে। নির্বাচিত আটটি পুজোগুলিতে ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিশেষ অতিথিরা আসবেন। নির্বাচিত পুজোগুলিতে দেশ-বিদেশের অতিথিদের আনার ব্যবস্থা করবে আদানি গোষ্ঠী। ওই পুজোগুলিতে যেতে পারবেন দর্শনার্থীরাও। কিন্তু তার আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সন্ধে ছ’টা থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত ভিড়ের আগেই মণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারবেন। এর জন্য কোনও অর্থ দিতে হবে না।
আরও পড়ুন: রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক লক্ষ কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর
এদিকে রাজ্যে শিল্পকে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। গঠনের পাঁচ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার মিলনমেলা দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মিলন মেলায় আয়োজিত ‘শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি বিতরণ’ অনুষ্ঠানে তিনি এই উদ্যোগের কৃতিত্ব দেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে। তাঁর কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে বলেন যে মুখ্যসচিব যথেষ্ট সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। অনুষ্ঠানটি মূলত বজবজে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল বলেও জানান তিনি। মিলন মেলায় শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি বিতরণের অনুষ্ঠান থেকে ন মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, রাজ্য সরকার পুজোর আগে শিল্পনীতি ঘোষণা করবে। একইসঙ্গে শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ করার বার্তা দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, ১৫৫-৩৩৫ টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। যদি কোথাও কেউ হুমকি দেয় বা তোলাবাজি করতে আসে, তাহলে এই নম্বরে জানালেই সরকার পদক্ষেপ করবে।
রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ নিয়ে দুই প্রাক্তন শাসক দল সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, সিপিএম সব কিছু ধ্বংস করেছে। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে বলে দিলেন তিনি জমি দেবেন না, খুঁজে নিতে হবে। এটা কোনও জমি নীতি হতে পারে না। শুভেন্দু জানান, ”বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁর দল খুব নেতিবাচক ছিল শিল্পায়নের বিষয়ে। আর মমতার নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই সিঙ্গুর থেকে টাটারা চলে গিয়েছিলেন।”
