চোরবাগান কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর জড়িত থাকার ঘটনায় সরব অভিষেক

সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় পেরিয়ে গেছে ১২ দিন। ১৯ জনের মৃত্যুর তদন্তে কোনও স্বচ্ছতা পাওয়া গেল না বলে অভিযোগ তুললেন মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং দেবদীপ অধিকারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারেরর দাবি তুললেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টার ইঙ্গিত দিয়ে জবাবদিহির হুঁশিয়ারিও দিলেন। বুধবার সন্ধেয় গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে নিয়ে চর্চার মাঝেই চোরবাগান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বড়সড় পোস্ট করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এত বড় বিপর্যয়ের পরেও আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেবদীপ অধিকারীর নাম উল্লেখ করেছেন অভিষেক। তাঁদের কেন এখনও গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি, তুলেছেন সে প্রশ্নও। অভিষেকের বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলেই কি কেউ আইনের ওপরে? তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাব বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। সাত বছরের এক শিশু সহ ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও রকম আপস করা চলবে না বলে তাঁর দাবি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ তদন্তকারী দলের কাছে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিষেক। তাঁর মতে, কয়েকজন ছোটখাটো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেই এতগুলি মৃত্যুর দায় এড়ানো সম্ভব নয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা—প্রতিটি স্তরে কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
বিজয় ওঝা, তমোঘ্ন ঘোষ ও দেবদীপ অধিকারীর ভূমিকা অবিলম্বে তদন্তের আওতায় এনে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন অভিষেক। তদন্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলে, তারও অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করেন তৃণমূল সাংসদ। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিযুক্তদের আড়াল করলে পরে বিপদে পড়তে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। যাঁরা প্রভাব খাটিয়ে কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের সতর্ক করে তাঁর বার্তা, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তদন্তে গাফিলতি বা কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা হলে ভবিষ্যতে তার জন্যও জবাবদিহি করতে হতে পারে। এমনকী, আইনি পদক্ষেপের মুখেও পড়তে হতে পারে সংশ্লিষ্টদের।
চোরবাগানের ঘটনায় ১৯টি প্রাণের বিচার চেয়ে অভিষেকের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার দম্ভ যেন সত্যকে চাপা দিতে না পারে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
