ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারির পর শুভেন্দু বললেন, ‘যত বড় মাথা হোক, কেউ ছাড় পাবেন না’, প্রশ্ন উঠছে— এরপর কে?

সংবাদদাতা, কলকাতা: দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ইডির ম্যারাথন জেরা শেষে সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে বেরতেই কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল তাঁকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায়। এই গ্রেপ্তারির পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও ইডি ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি চালালে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। তাই ইউনেস্কোর নামে যে বিপুল পরিমাণ টাকার আর্থিক তছরূপ হয়েছে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অজানা হয়। ৬০ কোটির টাকা কোনও পুজো কমিটির কাছে না গেলেও প্রশাসন কীভাবে তা জানতে পারল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যত বড়ই মাথা হোক দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে বর্তমান সরকার বলে জাানান তিনি। বর্তমানে লালবাজারে তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই দুর্নীতির নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও গত ২৭ অক্টোবর বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শুনানি থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি কোনও আইনি সুরক্ষা বা স্বস্তি পাননি। এরপর আদালতের নির্দেশ মেনেই তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। তবে দীর্ঘ জেরা শেষে বাইরে আসতেই বউবাজার থানা ও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ দল তাঁকে আটক করে সরাসরি গাড়িতে তোলে।
