বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
সামশেরগঞ্জে বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এনকাউন্টার গাইঘাটা ধর্ষণ কাণ্ডে এনকাউন্টার করে অভিযুক্তের মৃত্য়ু সরশুনা কাণ্ডে অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ একই দিনে জোড়া এনকাউন্টার রাজ্য়ে

অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ‘অর্ণব’এর তাণ্ডবে ৫ জন মৃত, হাওয়ার বেগ ছিল ঘণ্টায় দেড়শো কিমি পর্যন্ত

28 October, 2026 6:31 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। প্রাকৃতিক দুর্যোগের রোষে অন্ধ্রপ্রদেশে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লি, কাঁকিনাড়া, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গাছ চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এই মৃত্যুগুলি হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

মৌসম ভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়ার নিকটবর্তী পুদুচেরি জেলার ইয়ানামের কাছে ঘূর্ণিঝড়টির ‘ল্যান্ডফল’ হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা এই প্রক্রিয়া চলে। সে সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ার ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বুধবার বিকেল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ বা ‘চোখ’ স্থলভাগে সম্পূর্ণ ঢুকে পড়ে। এর পরেই ক্রমশ শক্তি হারাতে শুরু করে অর্ণব।

স্থলভাগে প্রবেশের পর এটি ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে বাঁক নেয়। সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এটি নারসাপুর থেকে ২০ কিমি, ইয়ানাম থেকে ৪০ কিমি এবং কাঁকিনাড়া থেকে ৬০ কিমি দূরে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আনাকাপল্লি, বিশাখাপত্তনম, কাঁকিনাড়া ও কোনাসীমা জেলার পাশাপাশি ওড়িশার গোপালপুর ও পুরীতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলছে। ঝড়ের জেরে বহু গাছ উপড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং খেলনা গাড়ির মতো উড়ে গেছে বাইক। দুই রাজ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকেই উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। উপকূলবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ও দুর্যোগের কারণে বেশ কয়েকটি উড়ান বাতিল করা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। এছাড়া সতর্কতা হিসেবে অন্ধ্র ও ওড়িশার বহু এলাকায় স্কুল সহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, স্থলভাগে প্রবেশ করার পর ঝড়ের দাপট কিছুটা কমলেও সতর্কতা এখনও বজায় রাখা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha