বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
চোরবাগানের শিল্পী সুশান্ত পালকে তলব লালবাজারের মানহানি মামলায় নির্দোষ রাহুল গান্ধী মেডিকেল কলেজে রোগীর মৃত্য়ু, তদন্ত কমিটি গঠন প্রেমিক ও তাঁর পরিবারকে নগ্ন করে হাঁটানোর অভিযোগ

মেডিকেল কলেজে কী কারণে মৃত্যু শিশুর, খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি

26 October, 2026 4:34 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা,  কলকাতা: মেডিক্যাল কলেজে ভুল চিকিৎসার জেরে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিবারের অভিযোগ, একটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই মারা গিয়েছে ১১ বছরের পবন যাদব। অন্য দিকে, জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, শিশুটির উপসর্গ দেখে ওই ইঞ্জেকশন দেওয়াই ছিল স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। তাঁদের বক্তব্য, ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই রোগী শকে চলে যায় এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়।

রবিবার সকালে আন্দুলের বাসিন্দা পবনকে কলকাতা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। পেটে ব্যথা নিয়ে সকাল ১০টা নাগাদ তাকে ভর্তি করানো হয় মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দেড় ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় সে। চতুর্থ শ্রেণির ওই পড়ুয়ার মামার বাড়ি কলেজ স্ট্রিটে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, সেখানে বেড়াতে এসেই পেটে ব্যথা শুরু হয় তার। পরিবারের বক্তব্য, ভর্তির সময় সে নিজে হেঁটেই ভিতরে ঢুকেছিল। অথচ সাড়ে ১১টা নাগাদ তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, ছেলে আর নেই। সামান্য পেটে ব্যথা থেকে কী ভাবে মৃত্যু হতে পারে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন পরিজনেরা।

ঘটনার পর রবিবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতা মেডিকেল কলেজ চত্বর। মারমুখী হয়ে ওঠেন মৃত বালকের পরিজনেরা। ঘটনায় লাঠিচার্জ করে পরিবার সদস্য়দের আটক করা হয়। পরে যদিও ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের। ঘটনার খবর পেয়ে রবিবারই হাসপাতালে পৌঁছন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝা। মৃত বালকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দেন এবং সেই মতো কমিটি গঠিত হয়।  শিশুরোগ বিভাগের অধ্যাপক রাকেশ মণ্ডলের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন শিশুশল্য বিভাগের প্রধান সুজয় মৈত্র, কার্ডিয়োলজির চিকিৎসক ইমরান আহমেদ এবং মেডিসিনের চিকিৎসক সঞ্জয় মণ্ডল। যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে তাঁদের।

সিনিয়র চিকিৎসকেরা কোথায় ছিলেন

শিশু বিভাগে কেন সিনিয়র চিকিৎসকেরা ছিলেন না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মৃতের বাবা নরেশ যাদব। এ নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা, ঠিক ওই সময়েই জরুরি বিভাগে এক রোগীর অবস্থার অবনতির খবর আসে। তাঁকে স্থিতিশীল করতে শিশু বিভাগে উপস্থিত সিনিয়র রেসিডেন্ট পোর্টেবল ভেন্টিলেটর নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। সেই ফাঁকেই মারা যায় শিশুটি।

প্রথমে ময়নাতদন্তে রাজি ছিলেন না পবনের বাবা-মা, ছেলের দেহে কাটাছেঁড়া চাননি তাঁরা। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুরোধে তাঁরা রাজি হন। মন্ত্রী বলেন, “বাবা-মা গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। আমি তাঁদের অভিযোগ মাথা পেতে নিচ্ছি। একটা ইঞ্জেকশন দেওয়ার ফলে এই মৃত্যু হতে পারে বলে ওঁদের অভিযোগ। আমি বলেছি, এই অভিযোগগুলির সত্য কি মিথ্যা তা প্রমাণ করার জন্য ময়নাতদন্ত বাঞ্ছনীয়।” তাঁর কথায়, ইঞ্জেকশন কখন, কী মাত্রায় দেওয়া হয়েছে এবং তা সঠিক ছিল কি না, সবই বোঝা যাবে ময়নাতদন্তের পর।

প্রতিবেদন

UTSAB RC