বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
চোরবাগানের শিল্পী সুশান্ত পালকে তলব লালবাজারের মানহানি মামলায় নির্দোষ রাহুল গান্ধী মেডিকেল কলেজে রোগীর মৃত্য়ু, তদন্ত কমিটি গঠন প্রেমিক ও তাঁর পরিবারকে নগ্ন করে হাঁটানোর অভিযোগ

রামায়ণ-স্রষ্টা মহর্ষি বাল্মীকির জন্ম-জয়ন্তী সারা দেশে পালিত

26 October, 2026 5:31 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মহর্ষি বাল্মীকি জয়ন্তী উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ধর্মীয় নিষ্ঠা ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে আদিকবির জন্মতিথি। মন্দিরে মন্দিরে বিশেষ পুজো, রামায়ণ পাঠ, ভজন-কীর্তন ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে রামায়ণের রচয়িতাকে। শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসেও মহর্ষি বাল্মীকির অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর জীবনকে ঘিরে প্রচলিত কাহিনি, আত্মপরিবর্তনের আদর্শ এবং রামায়ণের চিরন্তন বাণী আজও মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। বাল্মীকি জয়ন্তী তাই একাধারে শ্রদ্ধার, স্মরণের এবং ভারতীয় ঐতিহ্যকে ফিরে দেখার দিন।

হিন্দু ঐতিহ্যে মহর্ষি বাল্মীকি রামায়ণের রচয়িতা এবং সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন মহাকবি হিসেবে সম্মানিত। তাঁর রচিত রামায়ণ ভারতীয় ধর্ম, সাহিত্য, দর্শন ও সংস্কৃতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।

বাল্মীকিকে অনেক সময় ‘আদিকবি’ বলা হয়। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ক্রৌঞ্চ পাখির এক জোড়ার মধ্যে একটি পাখির শিকারির শরাঘাতে মৃত্যু দেখে তাঁর মুখ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি ছন্দোবদ্ধ শ্লোক উচ্চারিত হয়। এই ঘটনাকেই সংস্কৃত কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

বাল্মীকি জয়ন্তী সাধারণত আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে, অর্থাৎ শরৎকালের পূর্ণিমায় পালিত হয়। সেই হিসাবে সোমবার সর্বত্র তাঁকে নানা পুজো ও অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় বাল্মীকির জন্মজীবন সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য সীমিত। তাঁর জন্মসংক্রান্ত বিবরণ মূলত ধর্মীয় ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল।

দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জন্মজয়ন্‌তী পালন করা হচ্ছে। যেমন উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলায় হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান বাল্মীকি জয়ন্তী উপলক্ষ্যে গতকাল রবিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, রামায়ণ পাঠ, ভজন, কীর্তন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চিত্রকূট, অযোধ্যা, কানপুর, শ্রাবস্তী ও প্রয়াগরাজের মতো স্থানেও বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে।

বাল্মীকিকে ঘিরে প্রচলিত কাহিনিতে বলা হয়, রত্নাকর নামে এক দস্যু ঋষি নারদের উপদেশে আত্মোপলব্ধির পথে এগিয়ে সাধক ও মহাকবিতে রূপান্তরিত হন। এই কাহিনির ঐতিহাসিক সত্যতা নিশ্চিত নয়, কিন্তু এর নৈতিক বার্তা স্পষ্ট, মানুষের জীবনে পরিবর্তন সম্ভব।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, রামায়ণের কাহিনিতে বাল্মীকির আশ্রমে সীতার আশ্রয় নেওয়া এবং লব-কুশের বেড়ে ওঠার কথা রয়েছে। এর ফলে বাল্মীকি শুধু একজন কবি নন, রামায়ণের কাহিনিতেও তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

বাল্মীকি জয়ন্তীর তাৎপর্য তাই শুধু একজন ঋষির জন্মতিথি উদ্‌যাপনে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতীয় মহাকাব্যিক ঐতিহ্য, সংস্কৃত সাহিত্য এবং আত্মপরিবর্তনের আদর্শকে স্মরণ করার দিন। তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যকীর্তিকে ঐতিহাসিক ও সাহিত্য সমালোচনার দৃষ্টিতেও মূল্যায়ন করা জরুরি।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha