বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
চোরবাগানের শিল্পী সুশান্ত পালকে তলব লালবাজারের মানহানি মামলায় নির্দোষ রাহুল গান্ধী মেডিকেল কলেজে রোগীর মৃত্য়ু, তদন্ত কমিটি গঠন প্রেমিক ও তাঁর পরিবারকে নগ্ন করে হাঁটানোর অভিযোগ

‘দরকারে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেব’, কেন ফুঁসছেন কৌস্তভ বাগচী!

26 October, 2026 5:34 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, ব্য়ারাকপুর: ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দল এবার প্রকাশ্যে চলে এল। রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংকে নিশানা করে সাংবাদিক বৈঠক করলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচী। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার হত্যাকাণ্ড। কৌস্তুভের অভিযোগ, ওই ঘটনায় যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁরাই এখন অর্জুনের মঞ্চে বসে থাকছেন।

কৌস্তভ বাগচি জানান, অর্জুুন বাবুর প্রতি রাগ, ক্ষোভ নেই। তবে তাঁর কথায়, “আমাদের কিছু লোকের সঙ্গে মণীশ শুক্লার হত্যাকারীদের দেখা যাচ্ছে। এগুলো দেখতে ভাল লাগছে না।” নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বেশ কয়েকটি ছবিও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।  এর পরই কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন কৌস্তুভ। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীর নাম করে তিনি বলেন, “বিজেপিতে ঢুকতে দেব না, দেব না, দেব না।” নিজের রাজনৈতিক দৃঢ়তার প্রসঙ্গ টেনে বিধায়ক বলেন, “আমার রাজনৈতিক দৃঢ়তা সবাই জানেন। সাড়ে তিন বছর মাথা কামিয়ে রেখেছিলাম। অনেকে বিদ্রুপ করেছিল। বলেছিলাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার না-গেলে মাথায় চুল রাখব না।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তাঁর হুঙ্কার, “দরকারে বিজেপির রাজ্য অফিসের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেব।” কৌস্তুভের এই আক্রমণ নিয়ে অবশ্য বিশেষ কিছু বলতে চাননি অর্জুন সিং। তিনি শুধু বলেন, “আমি জানি কীভাবে রাজনীতি করতে হয়।”

২০২০ সালে টিটাগড়ে বিজেপি কার্যালয়ের সামনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল মণীশ শুক্লাকে। সেই ঘটনা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, বাইরে থেকে সুপারি কিলার এনে তাঁকে খুন করানো হয়েছিল। কৌস্তুভের দাবি, ওই ঘটনায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরাই এখন “আমাদের লোকেদের” পাশে দেখা যাচ্ছেন। মামলাটি নতুন করে কীভাবে এগোনো যায়, সেই প্রক্রিয়াও তিনি নিজে চালাবেন বলে জানিয়েছেন কৌস্তুভ। সেই প্রক্রিয়া দ্রুত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি সিআইডি এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখবেন বলেও জানান তিনি। সব মিলিয়ে ব্যারাকপুরে বিজেপির ভিতরের দ্বন্দ্ব এখন আর চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কার্যত অর্জুনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দৃঢ়তার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কৌস্তুভ।

প্রতিবেদন

UTSAB RC