সরকারি হাসপাতালে অনেক পরিকাঠামো নেই, চোরবাগানের ঘটনায় মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর
সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো এখনও ঠিকঠাক নেই। সে জন্যই ১৭ অক্টোবর চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে জখমদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালে ‘অ্যালার্জি টেস্ট’ হয় না। তাঁর সরকার মাত্র ছ’মাস হল ক্ষমতায় এসেছে। সমস্ত হাসপাতালের পরিকাঠামো মজবুত করতে অন্তত দু’বছর সময় লাগবে।
শনিবার চোরবাগান সর্বজনীনে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর আহতদের প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ১৪ জনকে সেখান থেকে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপরই শুভেন্দু সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন স্তরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। চিকিৎসকদের একটি অংশও এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাজির হন স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুমে। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ওই সময়ে মৃত্যু ঠেকানোই ছিল সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য। কলকাতা মেডিক্যালে যে পরিষেবা পাওয়া যাবে, তার চেয়ে ভাল ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে বলেই আহতদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল। আমরা খুশি যে চিকিৎসা শুরুর পর আর কারও মৃত্যু ঘটেনি। অনেক সময় চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে। এ ক্ষেত্রে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে ব্যর্থতার কিছু নেই।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা বেসরকারির সমকক্ষ করতে গেলে আমাদের দু’বছর লাগবে। পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও অ্যালার্জি টেস্ট করা যায় না। মুম্বইতে পাঠাতে হয় রোগীদের। আমি নিজে তার ভুক্তভোগী। তার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা করছি।’
