চোরবাগান: রক্তের হাহাকার, কেন সঙ্কটের কথা ঘোষণা করছে না প্রশাসন? প্রশ্ন রক্তদান আন্দোলনের কর্মীদের
লোপামুদ্রা ভৌমিক
চোরবাগানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৯। হাসপাতালে রয়েছেন অন্তত ৪০ জন। তারমধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি আছেন তাঁদের পরিবারকে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রক্ত নিয়ে। একে পুজোর মরশুম। তার ওপর ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোর ভাঁড়ার প্রায় শূন্য। স্বাভাবিকভাবেই প্রিয়জনদের প্রয়োজনে কোথা থেকে জোগাড় করা যাবে রক্ত সেই চিন্তায় নাস্তানাবুদ আহতদের আত্মীয়–পরিজনেরা। রক্তের সন্ধানে ছুটছেন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারছেন না, কোথায় গেলে মিলবে সুরাহা। এ প্রসঙ্গে কফি হাউস সোশ্যাল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক এবং রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম কর্মী অচিন্ত্য লাহা জানালেন, অবস্থা এক কথায় ভয়াবহ। ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলোতে রক্তের পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। প্রতি বছরই পুজোর মরশুমে রক্তের জোগান কম থাকে। কিন্তু এ বছর সেটা ভয়ঙ্কর জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। গরমের সময় রক্তের সমস্যা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এ বছর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর উদ্যোগে রক্তদান শিবিরের আয়োজনও তুলনামূলক কম। যতদূর জানা যাচ্ছে, ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলোতে যেটুকু রক্ত এখনও রয়েছে, তা প্রযোজনের তুলনায় প্রায় নস্যি। জরুরি প্রয়োজনে যে কোনও গ্রুপের রক্তদাতা ব্লাড ব্যাঙ্কে নিয়ে গিয়ে রক্ত দেওয়া হলে, প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত মিলছে। কিন্তু সেটাও কতক্ষণ পাওয়া যাবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তাহলে এরপর কী? এরপর একটাই পথ খোলা থাকবে। সেটা হল, আহতদের যে গ্রুপের রক্ত প্রযোজন সেই গ্রুপের ডোনার নিয়ে গিয়ে তারপর রক্ত সংগ্রহ করা। যা অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাধ্য ব্যাপার। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে রক্তের কার্ড রয়েছে। তবে ব্লাড ব্যাঙ্কেই যদি রক্ত না থাকে কার্ড কী কাজে লাগবে!
সুতরাং পুজোর মরশুমে চোরবাগানের ঘটনা এক ভয়াবহ বিপর্যয়।
হাটখোলা মেডিক্যাল ব্যাঙ্কের কর্ণধার এবং রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ডি আশিস। শনিবারের ঘটনার পর থেকে রক্তের প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন শয়ে শয়ে মানুষ। বললেন, এখন যা অবস্থা তাতে আহতদের পরিবারের লোকজনদেরই তৎপর হতে হবে রক্তের জন্য। আমরা যাঁরা সারা বছর রক্তদান কর্মসূচির সঙ্গে জুড়ে থাকি, তারা এই বিপর্যয়ে লোকজনের মুখ থেকে শুনছি রক্তের সঙ্কটের কথা। এক্ষেত্রে ব্লাড ব্যাঙ্ক, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং সর্বপরি প্রশাসনের একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। তারা কেন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানাচ্ছেন না যে, এই মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজন এবং ব্লাড ব্যাঙ্কের ভাঁড়ার প্রায় শেষ। সবাই এগিয়ে আসুন। তাহলেই তো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো ঝাঁপিয়ে পড়বে। শুধু কলকাতাই নয়, তখন সারা রাজ্যের অজস্র স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদানের জন্য কর্মসূচি শুরু করে দেবে। কিন্তু সেই জরুরি প্রয়োজনের কথা আগে ঘোষণা করতে হবে প্রশাসনকে। একেক জনের কাছ থেকে প্রয়োজনের কথা না জেনে একটা সার্বিক ঘোষণার প্রয়োজন। এবং সেটা যত তাড়াতাড়ি হয় ততই ভালো।
