বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

‘কমিটির লোকেরা খুন করেছে নাকি!’ চোরবাগান বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করবেন না, বার্তা রাজ্যের বিজেপি নেতাদের

18 October, 2026 1:03 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগানের বিপর্যয়ের ১২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটির কর্তা-সহ ১২জনকে আটক করেছে প্রশাসন। চোরবাগান সর্বজনীন সংলগ্ন এলাকায় লাগু হয়েছে ১৬৩ ধারা। এই ঘটনার পরেই শহরের বাকি পুজোগুলির ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সকালে আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপরই ভবানী ভবনে রাজ্য পুলিশের ডিজি, মুখ্যসচিব ও অন্য আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরই মধ্যে চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করার বার্তা রাজ্য বিজেপি নেতাদের।

রবিবার সকালে রাজ্য বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “উৎসবে মানুষের ঢল স্বাভাবিক, কিন্তু বড় জমায়েতে সামান্য অব্যবস্থাতেও বড় বিপদের ঝুঁকি থাকে। তাঁর মতে, আয়োজক কমিটি ও প্রশাসন, দু’পক্ষকেই আরও সতর্ক ও কঠোর হতে হবে। মণ্ডপের প্রবেশ-প্রস্থান পথ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার সব নিয়ম নিখুঁতভাবে যাচাই করেই অনুমতি দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, জীবন ও সুরক্ষাকেই সর্বাগ্রে রাখতে হবে, উপযুক্ত তদন্তে প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।” চোরবাগানের ঘটনার পরই বিজেপি নেতা সজল ঘোষ দর্শনার্থীদের প্যান্ডেল থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যেতে বলেন। দর্শন আংশিক বন্ধও রাখা হয়। এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি না করার আবেদন জানিয়েছেন বরানগরের বিধায়ক। তাঁর প্রশ্ন, কমিটির লোকেরা কি খুন করছেন, এমনটা কেউ বিশ্বাস করেন? তিনি স্বীকার করেছেন, ত্রুটি বা অব্যবস্থা থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর মতে এটা রাজনীতির সময় নয়। রাজনীতি যে হবে, সেটা তিনি জানেন বলেও বলেছেন, তবে সঠিক সময়ের কথাই বলেছেন।

সরকার বদলের আগে চোরবাগান সর্বজনীনের দায়িত্বে ছিলেন জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি খুঁটি পুজোও হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুজোর কমিটিতেও পালাবদল হয়। বিজেপির উত্তর কলকাতার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারীর নাম প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁরাই এবার এই পুজোর নেপথ্যে বলেও অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কুণাল ঘোষরা।  রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো নাবালক না সাবালক, তিনি জানেন না। তাঁর বক্তব্য, ওই ভাইপো কাঁথিতে থাকেন, চোরবাগানে কীভাবে এলেন তাও তাঁর জানা নেই। তিনি এ-ও বলেন, মানসিকভাবে তিনি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত, তাই এই মুহূর্তে কোনও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জবাব দিতে পারছেন না। বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। পুজোর সময় এমন ঘটনা মর্মান্তিক। সরকার প্রথম থেকেই পাশে আছে। তাদের চিকিতসার যাবতীয় ব্যবস্থা সরকার করছে। আমরা তো প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারি না। কিন্তু প্রশাসন নিজের কাজ করছে।”

চোরবাগানের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে মৃতদের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। রাতেই তিনি পৌঁছন চোরবাগানের মণ্ডপে। তিনি জানান, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব রাজেশ সিনহা, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিমের নেতৃত্বে একটি দল গড়া হয়েছে। দলটি শহরের জনপ্রিয় পুজোগুলি ঘুরে দেখবে। ডিজি গাইড করবেন, সহায়তা করবে কলকাতা পুলিশ। দলটি স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

বাকি তিন দিনের জন্য সতর্কবার্তা

পুজোর এখনও অষ্টমী, নবমী ও দশমী বাকি। এই দিনগুলিতে প্যান্ডেলে ভিড়ের আশঙ্কা থাকায় মুখ্যমন্ত্রী পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তাঁর কথায়, চোরবাগানের মতো পরিস্থিতি যাতে আর তৈরি না হয়, সে জন্য পুলিশ-প্রশাসন তৎপর, এবং সবাইকে কয়েকটা দিন সতর্ক থাকতে হবে। কমিটিগুলিকে পুলিশ-প্রশাসনের সুপারিশ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে শুধু পুরোহিতকে দিয়ে পুজো ও সংকল্প করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দর্শকদের জন্য মণ্ডপ বন্ধ রেখে বাইরে এলইডি স্ক্রিন বসানোর পরামর্শও দিয়েছেন।

প্রতিবেদন

UTSAB RC