সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে ঠিক কী হয়েছিল, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষদর্শীদের
সংবাদদাতা, কলকাতা: উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল শোকে। শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে একটি শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও ২৫ জন। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, বেশির ভাগেরই মৃত্যু হয়েছে ভিড়ের চাপে শ্বাসরোধ হয়ে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা। স্থানীয়দের বক্তব্য, কয়েক দিন ধরেই এই পুজো দেখতে ভিড় বাড়ছিল। শনিবারও গলি দিয়ে ধীরে ধীরে মণ্ডপের দিকে এগোচ্ছিলেন বহু মানুষ। হঠাৎ ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার শুরু হয়। তার মধ্যেই নামে মুষলধারে বৃষ্টি, আর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই একসঙ্গে মণ্ডপে ঢোকার চেষ্টা করেন। ঠেলাঠেলিতে কয়েক জন মণ্ডপের ভিতরের বৃত্তাকার পথে পড়ে যান, তার পরেই শুরু হয় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা। সূত্রের খবর, মণ্ডপে ঢুকে একটি বৃত্তাকার ‘এলিভেটেড করিডর’ ধরে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে বেরোতে হয়। বিপত্তি ঘটেছে ওই করিডরেই।
It’s too Scary 💔🫡
first time in my bloodlines , I hear Stampede in durga puja. Be Safe , Maa Durga Protect All. #Kolkata
Deeply saddened by the tragic stampede in Chorbagan Sarada park , North Kolkata, West Bengal. Mandap collapses during Durga festival. 22 dead in stampede. 32 injured, transferred to hospital.
Reports of chaos at the exit gate due to a massive crowd amid the rain.
Be Safe , it’s not to time panic.
— Purohit Says (@yashpurohitt) October 17, 2026
কোন্নগরের বাসিন্দা অনিন্দ্যকুমার দাস মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে বিকেলেই পুজো দেখতে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হতেই তিনি দু’জনের হাত ধরে রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু সামলাতে পারেননি। একজন আরেকজনের উপর পড়ছিলেন, চারদিকে আর্তনাদ। মেয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েন, নাতনিকে তিনি খুঁজছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, বিপদের সময় আশপাশে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক বা অ্যাম্বুল্যান্স, কিছুই চোখে পড়েনি। সাহায্যের জন্য চিৎকার করেও সাড়া মেলেনি। স্থানীয় কয়েক জন প্যান্ডেল ভেঙে কিছু মানুষকে উদ্ধার করেন। অনিন্দ্যবাবু বলেন, ঢোকার সময় উদ্যোক্তাদের ভিআইপি লাইন নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখেছিলেন। পাশে একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি থাকায় জায়গা আরও সংকীর্ণ লাগছিল। তাঁর মতে, কোনও ব্যবস্থাপনাই ছিল না। নাতনির জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন।
একদিন আগের উৎসবমুখর এলাকা রবিবার সকালে থমথমে। মণ্ডপের কাছে অনেক বাড়ির জানলা বন্ধ। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত রাস্তায় ব্যারিকেড, মোতায়েন কয়েক জন পুলিশকর্মী। গলির ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে ছোট-বড় নানা মাপের জুতো, যা দেখে আগের রাতের ভয়াবহতা আন্দাজ করা যায়। এক বাসিন্দা বলেন, গোটা রাত তিনি ঘুমোতে পারেননি, চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্য ভেসে উঠছে।
এই ভিডিওটা দেখলেই যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে….😱😱
#Chorbagan #ChorbaganAccident https://t.co/2dGUf9MhBe
— Deba 🇮🇳❤️🇮🇳 (@iamdeba11) October 18, 2026
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঘটনার সময় পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন না। মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর পথ সরু হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ ও দমকল খতিয়ে দেখে অনুমতি দিয়েছিল, এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা ও মৃতদের পরিবারের কেউ কেউ। তাঁদের প্রশ্ন, প্রতি বছরই যখন বিপুল ভিড় হয়, তখন এ বার কেন এমন হল? জানা গিয়েছে, এই পুজোর সঙ্গে জড়িত জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারী এবং উত্তর কলকাতার জেলা বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ।
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুজো কমিটির দুই শীর্ষ কর্তা-সহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর। ধৃতদের তালিকায় ভিআইপি পাসের দায়িত্বে থাকা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্তেরাও আছেন। অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। চোরবাগান লাগোয়া এলাকায় নবমী পর্যন্ত জমায়েত নিষিদ্ধ করে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
