বাংলাদেশ থেকে আনা জলে আজও পুজিতা হন তিলাসন জমিদার বাড়ির দুর্গা
সংবাদদাতা,মালদহ: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছে জমিদারি প্রথা। ফিকে হয়েছে পুরনো রাজকীয় জৌলুস। কিন্তু দুই শতকেরও বেশি সময় পেরিয়ে আজও অটুট মালদহের হবিবপুর ব্লকের তিলাসন এলাকার ঐতিহ্যবাহী রায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর রায় পরিবারের দুর্গাপুজোর ২২৬ বছর।
পুজো ঘিরে সিঙ্গাবাদ–তিলাসন জমিদার বাড়িতে সাজো সাজো রব। রায় পরিবারের সদস্যরা পুজো প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তুলতে এবং পুজোর আচার অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সারতে ব্যস্ত। এই পুজোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব এবং প্রধান আকর্ষণ হল ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের ওপার থেকে ঘটভরা জল নিয়ে আসার প্রাচীন রীতি। পুজো শুরুর সময় তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় যেভাবে বাংলাদেশ থেকে জল আনা হতো, দেশভাগের পরও সেই নিয়ম ও প্রথা একইভাবে চলে আসছে।
এখানেই শেষ নয়, সপ্তমীর সকালে দেবীর মূল আরাধনা ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার সূচনায় আজও শোনা যায় পাঁচ রাউন্ড গুলির শব্দ। জমিদার আমলের বন্দুক থেকে এই গুলি চালানোর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় মহাসপ্তমীর পুজো। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই অনন্য ঐতিহ্য ও শিহরণ জাগানো প্রথা আজও নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে রায় পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম।
কালের নিয়মে জীবনযাত্রা বদলেছে, সমাজ আধুনিক হয়েছে, কিন্তু পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে এতটুকু ম্লান হতে দেননি পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, তাঁদের কাছে এই পুজো কেবল একটি ধর্মীয় আচার বা উৎসব নয়। এটি মালদহের ইতিহাস, পারিবারিক শিকড় ও প্রাচীন বাঙালি সংস্কৃতির এক অমূল্য দলিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও সীমান্ত ঘেরা তিলাসন জমিদারের এই দুর্গাপুজো এক বিশেষ আবেগ ও গর্বের কেন্দ্রবিন্দু।
