বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

‘নির্বাচন কমিশন রেকর্ড হারায় কীভাবে?’, ভোটগণনার ভিডিও না থাকায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

14 October, 2026 7:39 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: নির্বাচন পরিচালনাই যাদের মূল কাজ, তারা ভোটগণনার নথি হারিয়ে ফেলল কী করে? কর্নাটকের শৃঙ্গেরী বিধানসভা কেন্দ্রের ২০২৩ সালের ভোটগণনার ভিডিও রেকর্ডিং খুঁজে না পাওয়ার কথা জানাতেই নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পরবর্তী শুনানিতে নথি জমা না দিলে কমিশনের বিরুদ্ধে অ্যাডভার্স ইনফারেন্স করতে বাধ্য হবে আদালত।

মামলাটি কংগ্রেস নেতা টি ডি রাজেগৌড়া এবং বিজেপি প্রার্থী ডি এন জীবরাজের নির্বাচনী বিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ২০১ ভোটের ব্যবধানে শৃঙ্গেরী থেকে জিতেছিলেন রাজেগৌড়া। পরে ফের গণনা হওয়ার পর জীবরাজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে বিধায়কপদ খোয়াতে হয় রাজেগৌড়াকে। তবে মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে স্বস্তি দিয়ে নির্দেশ দেয়, মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন তিনিই বিধায়ক থাকবেন।

রাজেগৌড়া আদালতে জানিয়েছেন, তিনি পর্যবেক্ষকের রিপোর্ট এবং আসল ভোটগণনা ও পুনর্গণনা, দুটির ভিডিও রেকর্ডিংই দেখতে চান। আদালত জানায়, এগুলি জমা দিতে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হবে। তখনই কমিশনের হয়ে সিনিয়র আইনজীবী শেষাদ্রি নাইডু জানান, ২০২৩ সালের ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমন বক্তব্যে অবাক হয় বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন করানোই কমিশনের একমাত্র উদ্দেশ্য, আর তার জন্য নথি রাখা অপরিহার্য। রেকর্ড হারিয়ে গেছে বা খোঁজা হচ্ছে, এমন যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বেঞ্চের মন্তব্য, নির্বাচিত প্রার্থীর হাতে তো এই রেকর্ড তুলে দেওয়া হয়েছিল, তাই হেপাজতে নথি না থাকার প্রশ্নই ওঠে না। ‘এ ধরনের ঠুনকো অজুহাত আমরা মানব না’, এই ভাষাতেই কমিশনকে কড়া বার্তা দেয় আদালত। কমিশনের কাছে যা আছে, তা-ই পরবর্তী শুনানির দিন জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০২৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।

কর্নাটক হাই কোর্টে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করে রাজেগৌড়ার জয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন জীবরাজ। ৬ এপ্রিল হাই কোর্ট ২৭৯টি বাতিল পোস্টাল ব্যালট পুনর্যাচাইসহ পোস্টাল ব্যালটের পুনর্গণনার নির্দেশ দেয়। ২০২৬ সালের ৩ মে রিটার্নিং অফিসার সংশোধিত ফল ঘোষণা করেন। জানা যায়, তাতে রাজেগৌড়ার ভোট ২৫৫টি কমে যায় এবং জীবরাজ জয়ী ঘোষিত হন। এই সিদ্ধান্তকেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন রাজেগৌড়া। তাঁর যুক্তি, হাই কোর্ট শুধু ২৭৯টি বাতিল পোস্টাল ব্যালট পুনর্যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিল, অথচ রিটার্নিং অফিসার বেআইনিভাবে তাঁর পক্ষের ৫৬২টি বৈধ পোস্টাল ব্যালটও নতুন করে বিবেচনা করেছেন। হাই কোর্টের রায়কেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন, জীবরাজের আনা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ যখন তাঁর পক্ষেই গিয়েছিল, তখন পুনর্গণনার প্রয়োজন ছিল কেন? জীবরাজ নিজে পোস্টাল ব্যালট পেপার বিকৃত করার একটি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি। il মে মাসে কর্নাটক হাই কোর্ট সেই মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC