কমলা মহামারী: ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে সোনার পাতে মোড়া নগ্ন ট্রাম্পের মূর্তি
মিউনিখ: স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভিতরে হঠাৎ চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত ভাস্কর্য। সোনার পাতে মোড়া, প্রায় সাড়ে আট ফুট উঁচু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নগ্ন মূর্তি বসানো হয়েছে সেখানে। ২৩ ক্য়ারেট সোনার পাতে মোড়া ভাস্কর্যটির নাম ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ: কিং অব ইনজাস্টিস’, বাংলায় বললে, ‘কমলা মহামারী: অন্যায়ের রাজা’। ডেনমার্কের ভাস্কর জেন্স গ্যালশিওটের এই কাজ ইতিমধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রে। সমাজমাধ্যমে এটি ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ নামেই ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপের সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে ট্রাম্পের ত্বকের কমলাটে রং নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়, আর সেই কারণেই শিরোনামে এসেছে ‘কমলা’।
ডেনমার্কের বামপন্থী রাজনীতিবিদ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য পার ক্লসেনের উদ্যোগে বুধবার পার্লামেন্ট ভবনে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়। এতে ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ নগ্ন দেখানো হয়েছে। এক হাতে তিনি ধরে আছেন একটি গল্ফ ক্লাব ও গ্লোবের আকৃতির একটি বল। অন্য হাতে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা। তিনি বসে আছেন এক কৃশ ও খর্বকায় মানুষের কাঁধের উপর, দুই হাঁটু দিয়ে শক্ত করে চেপে রেখেছেন সেই দুর্বল মানুষটির মাথা। ক্লসেন জানিয়েছেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই সাময়িক প্রদর্শনের জন্য মূর্তিটি ভবনের ভিতরে রাখা হয়েছে।
What a disgrace. A gold-plated, naked Donald Trump on a starving man’s back, branded “The Orange Plague,” is on show in the European Parliament in Strasbourg under the guise of “art”. The people who lecture the world on dignity can’t even manage basic respect for the president of a friendly nation. @realDonaldTrump @WhiteHouse
— Barbara Bonte (@Barbarabonte) October 6, 2026
ভাস্কর্যের নীচে একটি ফলকে লেখা আছে, “আমি এক জন মানুষের পিঠে চড়ে বসে আছি। তিনি আমার ভারে নুয়ে পড়ছেন। তাঁকে সাহায্য করার জন্য আমি সব কিছুই করব। শুধু তাঁর পিঠ থেকে নেমে যাওয়া ছাড়া।”
জেন্স জানিয়েছেন, উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সবুজায়ন বিষয়ে ট্রাম্প সরকারের নেতিবাচক ভূমিকা এবং বিশ্ব জুড়ে আমেরিকার আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার বিরুদ্ধে এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ। রাজনৈতিক শিল্পকর্মের জন্য জেন্সের আগে থেকেই পরিচিতি আছে। ১৯৮৯ সালে বেজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে চিনা সেনার হামলায় নিহত আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের স্মরণে তৈরি তাঁর ভাস্কর্য ‘পিলার অব শেম’ (লজ্জার স্তম্ভ) বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
