নানা ছিলেন ‘পারফেক্ট মেথড অ্যাক্টর’
গৌতম ঘোষ
পরিচালক
নানা এসেছিলেন অফুরন্ত প্রাণশক্তি আর অপরিসীম প্রতিভা নিয়ে। চোখ-মুখ-শরীর বিভঙ্গ– সবকিছু দিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মাতিয়ে রাখার অসামান্য ক্ষমতা ছিল ওঁর। মঞ্চের মানুষ হওয়ায় এই কাজটা নানার রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। সেটা নয়ের দশকের আশেপাশে হবে। আমার সঙ্গে নানার প্রথম দেখা মুম্বইয়ে মনমোহন শেট্টির ‘অ্যাড ল্যাব’-এ। তখনই পরিকল্পনা করেছিলাম আমরা দুজনে একসঙ্গে ছবি করব। সেই পরিকল্পনা রূপ পেল ২০০৬ সালে। ‘যাত্রা’ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে কী অসামান্য অভিনয় করেছিলেন নানা! শুটিং করেছিলাম হায়দরাবাদ, কলকাতা আর রামোজি ফিল্ম সিটিতে। যেখানেই শুটিং করতে যেতাম, নানাকে দেখতে রাস্তায় লোকে লোকারণ্য হয়ে যেতো। হায়দরাবাদে রাস্তায় নানা বা রেখাকে নিয়ে শুট করতে গিয়ে এত মানুষের ভিড় জমেছিল যে, শুটিং কীভাবে করব তা নিয়েই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু অবাক হয়ে গিয়েছিলাম ওই পরিস্থিতিতেও নানার স্পিরিট দেখে। শুটিং-এর সময় কত বিষয়ে আলোচনা হতো, কখনও কোনও কারণে হয়ত নানার ওপর রাগও করেছি। কিন্তু সবসময়ই দেখছি ও আর পাঁচজনের থেকে একেবারে আলাদা। অনেককেই বলতে শুনেছি নানা নাকি খুব বদমেজাজি। আসলে কিন্তু তা একবারেই নয়। ওঁকে বাইরে থেকে দেখে মনে হত খুব কঠিন, কঠোর। কিন্তু মানুষ হিসেবে ছিলেন অসামান্য। ছবির চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকার চেষ্টা করতেন সারাক্ষণ। যাকে বলে পারফেক্ট মেথড অ্যাক্টর। ওঁর মতো এত বড় মাপের অভিনেতা খুব কম জন্মেছেন। নানার মৃত্যুতে ভারতীয় সিনেমা জগতে একটা চিরকালীন শূন্যতা যে তৈরি হল সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাত্র ক’দিন আগেই দেখা হয়েছিল আমাদের। কত কথা হল। আগামীতে বেশ কিছু কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। নিঃশব্দে কত মানুষকে যে সাহায্য করত তা বলে শেষ করা যায় না। কিন্তু সে কথা কখনও কোনওদিন বাইরে বলে বেড়াত না। আমি তো নিজের চোখে সে সব দেখেওছি বেশ কয়েকবার। এখন সবটাই স্মৃতি। সিনেমাপ্রেমীদের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবেন নানা পাটেকর। ভারতীয় সিনেমা জগতে একটা যুগের অবসান হল।
