ক্রীড়াজগতে বড় ধাক্কা! ইতিহাস গড়ে এ বছর কাউকেই দেওয়া হচ্ছে না দেশের সর্বোচ্চ খেলরত্ন পুরস্কার
নয়াদিল্লি: দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালের জন্য দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান ‘মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন’ পুরস্কার পাচ্ছে না ভারতের কোনো ক্রীড়াবিদই। ক্রীড়া মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ২০২৫-এর তালিকা ঘোষণা করার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ১৯৯১-৯২ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের সূচনা হওয়ার পর থেকে গত তিন দশকেরও বেশি সময়ে এমন ঘটনা মাত্র তৃতীয়বার ঘটল। এর আগে কেবল ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে কোনো ক্রীড়াবিদকেই খেলরত্ন সম্মান প্রদানের যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়নি।
পছন্দ সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে বাদ তারকা অ্যাথলিটরা
সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অরুণ কুমার মিশ্রর নেতৃত্বাধীন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নির্বাচন কমিটি কয়েকজন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদের নাম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছিল। গত ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমিটির বিশেষ বৈঠকে ভারতের একাধিক তারকা খেলোয়াড়ের নাম বিবেচনাধীন ছিল। বিশেষ করে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করা তিরন্দাজ জ্যোতি সুরেশা ভেন্নামের নাম উঠে আসে। তবে দীর্ঘ পর্যালোচনা এবং যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সুপারিশ তালিকায় কারোর নামই শেষ পর্যন্ত রাখা হয়নি। কমিটি থেকে অনুমোদিত প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যর কাছে পাঠানো হলে তাতে সীলমোহর পড়ে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
যদিও সরকারিভাবে কমিটির সিদ্ধান্তের কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খেলরত্ন পুরস্কারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও কঠোর নিয়মকানুনের কারণেই এই সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিটির মতে, গত কয়েক বছরে বিশ্বমঞ্চে বা অলিম্পিক ক্যাটাগরিতে এমন কোনো ধারাবাহিক বা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী পারফরম্যান্স তৈরি হয়নি যা সর্বসম্মতিক্রমে ‘খেলরত্ন’-এর উচ্চমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুধুমাত্র সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নয়, বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা ও আন্তর্জাতিক মানের শিরোপা জয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি কঠোরভাবে মেনে চলাতেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
ক্ষোভ ও হতাশা ক্রীড়ামহলে
২০২৫ সালে কোনো অ্যাথলিট খেলরত্ন না পাওয়ায় ভারতীয় ক্রীড়ামহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, ভারত যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করছে এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত উন্নতি হচ্ছে, তখন দেশের সর্বোচ্চ সম্মান না দেওয়া ক্রীড়াবিদদের মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মহিলা ক্রিকেট দল যখন বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছে, তখন হরমনপ্রীত বা স্মৃতির মতো অভিজ্ঞদের না ভেবে দেখা হতাশাজনক বলে মনে করছেন অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ।
তবে অন্য অংশের মতে, পুরষ্কারের মান ও মর্যাদা রক্ষা করতে নির্বাচন কমিটির এই কঠোর মনোভাব দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় ক্রীড়ার মান বাড়াতে সাহায্য করবে। সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের এই শূন্য হাত ফেরা সাম্প্রতিক ক্রীড়া ইতিহাসে এক বিতর্কিত ও বিরল ঘটনা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
