বিশাল পুলিশ মোতায়েন SRFTI চত্বরে
সংবাদদাতা, কলকাতা: সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিবেশ রয়েছে সোমবারও। ইনস্টিটিউটের ভেতরে একাধিক জায়গায় রবিবার রাতে ভাঙচুর চালানো হয়। আচমকা এই হামলার ফলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং আবাসিক ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এই ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগের বিষয়ে কোনও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরদিন সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মূল গেট থেকে শুরু করে পুরো চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের জন্য জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা। ইনস্টিটিউটের প্রধান গেটে প্রতিটি ছাত্রছাত্রী ও স্টাফকে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে তবেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। একবার ভেতরে চলে গেলে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভেতরের হস্টেলে যাঁরা থাকেন, তাঁদের সুরক্ষার স্বার্থে এবং নতুন করে কোনও ঝামেলা যাতে না বাঁধে তার জন্য বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অশান্তি ও ভাঙচুরের ঘটনার জেরে আইনি পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। মোট তিনটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঠিক কী ঘটেছিল, ভাঙচুরের পেছনে কারা যুক্ত এবং সুরক্ষায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না—সেই সব দিক খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাস জুড়ে বিশাল পুলিশ মোতায়েন থাকায় থমথমে পরিবেশ রয়েছে। আপাতত পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে।
এদিকে সোমবার সেই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বলেছেন, ‘যারাই করে থাকুক, এটা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ। কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি এতদিন ধরে বাংলায় সক্রিয় ছিল। প্রাক্তন সরকারের ছত্রছায়ায় তারা বেঁচে ছিল। তারা একে একে এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি এবং পরম্পরা বিরোধী এই সব কার্যকলাপ মানুষ আর মানবে না। নকশাল আমলে মহাপুরুষদের মূর্তি ভেঙে দেওয়া হতো, কালি লাগিয়ে দেওয়া হতো। সেই সব দিন চলে গেছে। তাদের কিছু উত্তরসূরি এখনও বেঁচে আছে। সেই অভ্যাস ওরা ছাড়তে পারছে না।’ সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের গোলমাল নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, স্বামীজির অপমান মানা যাবে না। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কাউকে ছাড়া হবে না।
