জ্ঞানেশ কুমার না সরা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, শ্রীরামপুরে তোপ মমতার
সংবাদদাতা, শ্রীরামপুর: শ্রীরামপুরে সভা করেই জেলা সফর শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কলকাতা থেকে উত্তরপাড়া দিয়ে শ্রীরামপুরের দিকে এগোলেন না তিনি। শনিবার বিকেলে রুট পরিবর্তন করে ডানকুনি দিয়ে দিল্লি রোড ধরে শ্রীরামপুর গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার গাড়ির পাশে পুলিশের গাড়ি দেখা গিয়েছে। নির্বিঘ্নেই সভাস্থলে পৌঁছে সভা শেষ করেন তিনি। উল্লেখ্য, এসআইআরের শুরু থেকেই একাধিক যুক্তি দেখিয়ে বিরোধিতার পথে হেঁটেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনও তাঁর নিশানায় ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পরবর্তীতে কমিশনের তথ্য সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলানো অফিসার সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা। কিন্তু সেসময় তাঁদের বিরোধিতা গুরুত্ব পায়নি। রাজ্যের প্রায় ৯২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল এসআইআরে। সম্প্রতি এই এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় সেটাই বিরোধীদের তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার শ্রীরামপুরে জনসভা থেকে মমতা ফের জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুড় চড়ালেন। তিনি বললেন, ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমন অন্যায়কারীদের ধরব। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যতদিন না সরবে, আমাদের আন্দোলন চলবে। তিনি আরও বলেন বাংলা দখল করবে বলে এসআইআর করেছিল। বহু টালবাহানার পর কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে শর্তসাপেক্ষে শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে জনসভা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ভাগ হওয়ার পর, ঘাসফুল প্রতীক হারানোর পর এটাই মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূলের প্রথম জনসভা। শনিবার সেই সভা থেকেই একের পর এক ইস্যুতে কেন্দ্রের শাসকদল ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন মমতা। বললেন, বাংলা দখল করবে বলে এসআইআর করেছিল, ৯৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আমরাই প্রথম বলেছিলাম, ওই অফিসার সীমা খান্নার ভূমিকা সন্দেহজনক। ফর্ম ৬ বস্তায় করে বিজেপির সিল লাগিয়ে জমা দিচ্ছিল বিজেপির লোকজন। সব তথ্য রেখে দিয়েছি। ভ্যানিশ কুমার নামটা আমি প্রথম বলেছিলাম। কারণ কী জানেন? ধরে ধরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছিল। ওরা বাংলা দখল করেছে, আমরা দিল্লি দখল করব। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে জাতীয় স্তরে একজোট হচ্ছে বিরোধীরা। এনিয়ে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে ফোন এবং চিঠিতে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের সভা থেকে সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে মমতা বললেন, ইস্যু এক হলে কোনও দল দেখব না। কে কোন দল করছে, দেখার দরকার নেই। একসঙ্গে সেই ইস্যুতে লড়তে হবে। একইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর বক্তব্য, পুলিশ আমার শত্রু নয়। মানুষকে রক্ষা করা তাদের কাজ। কিন্তু আজ কী করছেন, আমার সভায় যাতে কেউ আসতে না পারেন তার জন্য গতকাল রাতে শ্রীরামপুরের বাড়ি বাড়ি থেকে তৃণমূল সমর্থকদের খুঁজে বের করে অ্যারেস্ট করেছে।এর শেষ না দেখা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
