বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে উমা, ফেরার পথে নৌকা — কী বলছে শাস্ত্র?

26 September, 2026 5:26 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে দুর্গাপুজো ২০২৬। কুমোরটুলিতে এখন নিঃশ্বাস ফেলারও সময় নেই প্রতিমাশিল্পীদের, পাড়ায় পাড়ায় জোরকদমে চলছে প্যান্ডেল বাঁধার কাজ, শুরু হয়ে গেছে উৎসবের বাজারও। হাতে গোনা আর কটা দিন বাকি — আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, তার আগে ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়া, আর সেদিন থেকেই শুরু দেবীপক্ষ।

মা দুর্গার নিজের বাহন সিংহ হলেও, মর্ত্যে আসা এবং ফিরে যাওয়ার জন্য প্রতিবারই তাঁর আলাদা বাহন নির্ধারিত হয়। প্রতি বছর পুজোর আগে বাঙালির মনে একই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে — এবার মা আসছেন কীসে, আর ফিরবেনই বা কীসে?

কোন হিসেবে ঠিক হয় বাহন?

পঞ্জিকা অনুযায়ী, সপ্তমী তিথি সপ্তাহের কোন বারে পড়ছে, তার উপর নির্ভর করেই স্থির হয় দেবীর আগমনের বাহন। শাস্ত্রমতে, সপ্তমী রবি বা সোমবারে পড়লে মা আসেন হাতিতে চড়ে; বৃহস্পতি বা শুক্রবার হলে পালকি বা দোলায়; বুধবার হলে নৌকায়; আর শনি বা মঙ্গলবার হলে ঘোড়ায়।

এবছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে সপ্তমী তিথি পড়েছে পরপর দু’দিন — ১৭ ও ১৮ অক্টোবর। তবে শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী প্রথম দিনটিকেই ধরা হয় দেবীর আগমনের দিন হিসেবে। যেহেতু ১৭ অক্টোবর শনিবার, তাই এবার মা দুর্গা মর্ত্যে পা রাখবেন ঘোড়ায় চড়ে।

ফেরার বাহন নৌকা

একইভাবে, দেবীর কৈলাসে ফেরার বাহনও নির্ধারিত হয় দশমী তিথির বার অনুযায়ী। এবার বিজয়া দশমী পড়েছে ২১ অক্টোবর, বুধবার — আর নিয়মমতো বুধবারে দশমী পড়লে মায়ের ফেরার বাহন হয় নৌকা।

শাস্ত্রে বলা আছে, কোনও বছর যদি আগমন ও প্রস্থানের বাহন একই হয়ে যায়, তা অশুভ বলে গণ্য হয়। এবারের ক্ষেত্রে যদিও তেমনটা হচ্ছে না — মা আসছেন ঘোড়ায়, ফিরছেন নৌকায়, অর্থাৎ দুই বাহন আলাদা, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয় বলেই মনে করা হচ্ছে।

কী ইঙ্গিত বহন করে এই দুই বাহন?

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে ঘোড়ায় চড়ে দেবীর আগমনের ফল বলা হয়েছে “ছত্রভঙ্গ স্তুরঙ্গমে” — অর্থাৎ, এর ইঙ্গিত সামাজিক, রাজনৈতিক বা সামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধির দিকে, এমনকি সংঘাত বা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায় এই বাহনের ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে নৌকায় দেবীর প্রত্যাবর্তনের ফল ধরা হয় “শস্যবৃদ্ধিস্তথা জলম” — যার অর্থ, প্রচুর ফসল ফলবে, চারদিক সবুজে ভরে উঠবে এবং মানুষের বহু কাঙ্ক্ষিত ইচ্ছাপূরণ হবে। তবে এর সঙ্গেই জুড়ে থাকে এক আশঙ্কার দিকও — অতিবৃষ্টি বা বন্যার সম্ভাবনা।

এক নজরে পুজোর নির্ঘণ্ট ২০২৬

  • মহাষষ্ঠী: ১৬ অক্টোবর

  • মহাসপ্তমী: ১৭ ও ১৮ অক্টোবর

  • মহাষ্টমী: ১৯ অক্টোবর

  • মহানবমী: ২০ অক্টোবর

  • বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর

শাস্ত্রীয় হিসেব-নিকেশ যেমনই হোক না কেন, উৎসবের এই কটা দিন প্রাণ খুলে আনন্দ করাটাই বরাবরের রীতি বাঙালির — আর সেই প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে গোটা বাংলা জুড়ে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC