রাতের আকাশে সপ্তর্ষিমন্ডল দেখেছেন? পুরাণে কারা সেই সপ্ত ঋষি? কীভাবে তাদের সঙ্গে মানুষ জুড়ে?
রাতের আকাশে চোখ রাখলে যে তারার ঝাঁক মুগ্ধ করে, তার মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ে সাতটি তারার এক বিন্যাস — সপ্তর্ষিমণ্ডল। এই সাতটি তারাকে সরলরেখায় জুড়লে অনেকটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন বা তরবারির মতো আকৃতি তৈরি হয়। বছরের বিভিন্ন ঋতুতে আকাশের বিভিন্ন প্রান্তে এদের অবস্থান বদলায় — চৈত্র-বৈশাখে দেখা যায় উত্তর আকাশে, গ্রীষ্মের মাসগুলোয় সরে আসে পশ্চিমে, তারপর কিছুদিন অদৃশ্য থেকে শীতের শেষে আবার ফিরে আসে উত্তর-পূর্ব আকাশে।
পুরাণ অনুসারে, এই সাতটি তারা আসলে সাতজন মহাঋষির প্রতীক, যাঁদের উপর ন্যস্ত ছিল সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষার গুরুদায়িত্ব। বিষ্ণুপুরাণ বলছে, স্বয়ং ব্রহ্মার মানস থেকে এই সাত জ্ঞানী ঋষির উদ্ভব। তবে এই সপ্তর্ষিরা কিন্তু চিরকালীন নন — প্রতিটি মন্বন্তর শেষে তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব সমাপ্ত করে পরমব্রহ্মে বিলীন হয়ে যান, আর নতুন মন্বন্তরে আসেন নতুন সাতজন ঋষি। এভাবে মোট চোদ্দোটি মন্বন্তরে বদলে বদলে এসেছেন সাতজন করে ঋষি — সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়ায় আটানব্বই।
সচরাচর আমরা পাঠ্যবইয়ে যে সাত ঋষির নাম পড়ি — জমদগ্নি, কাশ্যপ, অত্রি, বশিষ্ঠ, গৌতম, বিশ্বামিত্র ও ভরদ্বাজ — আসলে তাঁরা সপ্তম মন্বন্তরের সপ্তর্ষি, প্রথম মন্বন্তরের নন। প্রথম মন্বন্তরে ছিলেন মারীচ, অত্রি, আঙ্গিরস, পুলহ, পুলস্ত্য, ক্রতু ও বশিষ্ঠ।
এরপর প্রতিটি মন্বন্তরে বদলেছে এই তালিকা — দ্বিতীয় মন্বন্তরে উর্ষা, স্তম্ভ, প্রাণ প্রমুখ; তৃতীয়তে বশিষ্ঠপুত্ররা; চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মন্বন্তরে আসেন জ্যোতির্ধামা, হিরণ্যরোমা, সুমেধা-সহ আরও অনেকে। সপ্তম মন্বন্তরের পরিচিত সপ্তর্ষির পর অষ্টম মন্বন্তরে দেখা মেলে দীপ্তিমান, পরশুরাম, কৃপ, অশ্বথামা ও ব্যাসের মতো নামের। এভাবে ধারাবাহিকভাবে নবম থেকে চতুর্দশ মন্বন্তর পর্যন্ত বদলে গেছে সপ্তর্ষির নাম-পরিচয়, তবু তাঁদের দায়িত্ব একই থেকে গেছে — সৃষ্টির সাম্য রক্ষা।
