স্বপ্নে বাসা বাঁধে ‘যুদ্ধ বিরতি’
লোপামুদ্রা ভৌমিক
‘যারা যুদ্ধ চায়, তারা যুদ্ধে যায় না। যারা যুদ্ধে যায়, তারা যুদ্ধ চায় না’।
যে কোনও যুদ্ধের নেপথ্যেই গোপনে থেকে যায় এই চরম সত্য। এক শ্রেণির মানুষের কাছে চিরকাল যুদ্ধ শুধুই উপভোগের বস্তু। তাই একটা যুদ্ধের শেষের পৃষ্ঠায় ওঁত পেতে থাকে আরেকটা যুদ্ধের শুরুর ইতিহাস। আর সেই ক্ষণিক যুদ্ধবিরতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধহীন জীবনের স্বপ্ন দেখে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের দল। কিন্তু উত্তাল সময়কে রুখবে কে? ভয় আর হিংসার আঁতাতে রক্তে লাল হয় বিশ্বের মাটি। তেতে ওঠে রাজনীতির আঙিনা। কিন্তু কেন এই যুদ্ধ? কার জন্য যুদ্ধ? কীসের আশায় যুদ্ধ? যুদ্ধ জয়ের পর কি আদৌ শান্তির সোপান তৈরি করা সম্ভব? নাকি সেই জয় এক নৃসংশ উল্লাসের জন্ম দেয়?
এরকমই চিরকালীন কিছু প্রশ্নকে মঞ্চে তুলে আনতে চলেছে শোভাবাজার প্রতিবিম্ব। ২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র সদনে মঞ্চস্থ হতে চলেছে দলের নতুন প্রযোজনা ‘যুদ্ধ বিরতি’। নাট্যকার সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়। নির্দেশনার দায়িত্বে আছেন চার্ণক চট্টোপাধ্যায়। নাটকের প্রেক্ষাপটে উঠে আসবে বিশ্বের চলমান রাজনীতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির ছবি। একদিকে যুদ্ধের উন্মত্ত দামামা, নাগিনীদের বিষাক্ত নিশ্বাসে ভরা বাতাস, অন্যদিকে হাজার হাজার গৃহহারা, না খেতে পাওয়া মানুষের কান্না। দুইয়ে মিলে চোখের সামনে এক আশ্চর্য পৃথিবীর চালচিত্র। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের প্রতিপত্তির ফল ভুগছে বিশ্ব। যার একপাশে দুমড়ে–মুচড়ে পড়ে রয়েছে অন্তহীন ভালোবাসা, বাঁচার ডাক, স্বপ্ন, আনন্দ, আর অনিঃশেষ জীবন যুদ্ধের খতিয়ান। এই বৈপরীত্যে ভরা চলমান বিশ্বকেই মঞ্চে বাঁধতে চলেছে শোভাবাজার প্রতিবিম্ব। এ নাটক শুধু যুদ্ধের সতর্কবার্তা আর পর্যালোচনা নয়, সংলাপ আর চিত্রণে ধরা পড়বে এমন এক দুনিয়া তৈরির স্বপ্ন, যেখানে হিংসা আর পৈশাচিকতার জায়গায় হাত ধরাধরি করে হেঁটে যাবে শান্তি আর সৌহার্দ্য। বন্ধুতা আর মৈত্রী। প্রেম আর প্রীতি। কারণ, ‘আর সব মরে... স্বপ্ন মরে না।’
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে অমিত রায়, ঋত্বিক বেরা, রনিত দে, ঐশিকী রায়, সৌমি ঘোষ, জ্যোতিমালা প্রমুখকে। বিশেষ চরিত্রে থাকবেন নির্দেশক চার্ণকও।
