‘গোবরডাঙ্গা নকসা’ আয়োজিত নাট্য প্রশিক্ষণ শিবির
সায়নী চক্রবর্তী
৩ থেকে ১২ই আগস্ট, ২০২৬ গোবরডাঙ্গা নকসা বেশ কয়েকটি শর্ট টার্ম ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছিল। এই ওয়ার্কশপ প্রধানত আয়োজন করা হয়েছিলো রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের জন্য। তবে এই ছোটো ছোটো ২-৩ টি ওয়ার্কশপে বাইরের কিছু আগ্রহী মানুষজনদেরও শেখার সুযোগ করে দিয়েছিল গোবরডাঙ্গা নকসা। ওয়ার্কশপটি শুরু হয় দুদিনের স্টেজ মেকআপ ওয়ার্কশপের মধ্য দিয়ে। প্রশিক্ষণ দেন রূপসজ্জা শিল্পী সুরজিৎ পাল। তিনি শিক্ষার্থীদের গোবরডাঙ্গা স্টেশন চত্বরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রদের দেখিয়ে সেই চরিত্রদের মেকআপ কেমন হতে পারে তা হাতেকলমে শেখান। এরপর ছাত্রছাত্রীদের স্তানিস্লাভস্কি মেথড অফ অ্যাক্টিং -এর ওপর ক্লাস নেন গোবরডাঙ্গা নকসার অন্যতম প্রধান দীপান্বিতা বণিক দাস এবং ওই একই দিনে পরবর্তী পর্যায়ে ইমপ্রোভাইজেশনের ওপর ক্লাস নেন নকসার আর এক সদস্য নীলাদ্রি শেখর কাঞ্জিলাল। তারপর ৬ ও ৭ তারিখে হয় স্টেজ লাইটের ওয়ার্কশপ. যেখানে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষক হিসাবে যৌথভাবে পেয়েছিল আলোক শিল্পী শুভঙ্কর দে এবং নকসার প্রাণপুরুষ আশিস দাসকে। শুভঙ্কর দে আধুনিক আলো এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই আলোর ব্যবহার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। আশিস দাস সাবলীলভাবে এবং দীর্ঘসময় ধরে কীভাবে আলোর ব্যবহার করা যেতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা দেন। ৮ তারিখে হয় তিন দফায় ক্লাস। প্রথম পর্বে ক্লাস হয় ইমপ্রোভাইজেশনের ওপর। ক্লাস করান ঐশী ভট্টাচার্য্য। দ্বিতীয় পর্বে ক্লাস নেন সুভাষ চক্রবর্তী । তিনি “ম্যাজিক ইন থিয়েটার” বিষয়ে আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের ম্যাজিকও শেখান। তৃতীয় তথা শেষ পর্বে কণ্ঠস্বর বিষয়ে ক্লাস নেন মনিদীপা সেন। ৯ তারিখে মুভমেন্টের ক্লাস নেন সেঁজুতি সেন। ১০ এবং ১১ তারিখে মডার্ন অ্যাক্টিং-এর ওপর ক্লাস নেন ডা. মৌমিতা দেবনাথ। শেষ দিন অর্থাৎ ১২ তারিখ মাইন্ড অ্যান্ড কনসেন্ট্রেশন বিষয়ে ওয়ার্কশপ করান গৌতম মিত্র। সব মিলিয়ে মজা ও হইহুল্লোড় করে কদিনের ওয়ার্কশপ শেষ করে ছাত্রছাত্রীরা। শেষ দিনের ওয়ার্কশপের পরে নকসার নবতম প্রযোজনা ভূমিসূতা দাস নির্দেশিত “মন গেলো গোটা বাজারে” নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। তারপর হয় শংসাপত্র প্রদান অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শমিত বন্দ্যোপাধ্যায়।
