পশ্চিমবঙ্গের দুই আসনে হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন
সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও নির্বাচনী উত্তাপ। রাজ্যের হাইভোল্টেজ দুই বিধানসভা কেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উপনির্বাচন। এই উপনির্বাচন কেবল দুটি শূন্য আসন পূরণের লড়াই নয়, বরং এটি বর্তমান রাজ্য সরকারের জনপ্রিয়তা এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক প্রভাবে এক বিরাট পরীক্ষা হতে চলেছে। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্যের নজর এখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক ময়দানে। মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র পেশের শেষ সময়সীমা। ভোটের ফলাফস ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। এদিন নিজের এলকার ডিএম অফিসে মনোনয়নপত্র জমা করেন প্রার্থীরা।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিয়ম মেনে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ত্যাগ করে ভবানীপুর কেন্দ্রটি নিজের কাছে রেখে দেন, যার ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন আবশ্যিক হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ূন কবীর পদত্যাগ করায়। তিনিও দুটি কেন্দ্র (রেজিনগর ও নওদা) থেকে জয়ী হয়েছিলেন। এই উপনির্বাচনে ঘাসফুল প্রতীকের স্বত্ব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে শুরু করে একাধিক ফ্রন্টের মধ্যে ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ের টানটান চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রার্থী তালিকা একনজরেঃ ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত আপ্ত সহায়কের মা হাসিরানি রথ। রেজিনগর থেকে বিজেপি প্রার্থী বিজেপির রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকার।
তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের থেকে প্রার্থী হয়েছেন সঞ্চিতা প্রধান দে ও রেজিনগরে প্রার্থী হন রবিউল চৌধুরি।
তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত শিবিরের থেকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন মহম্মদ এহতেশামুল হক ও রেজিনগর থেকে প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ।
কংগ্রেস এর পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয় মিলন প্রধান এবং অপর একটি কেন্দ্র রেজিনগরের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি।
বামফ্রন্টের তরফে নন্দীগ্রামে প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। তবে রেজিনগরে প্রার্থীদেওয়ার ক্ষেত্রা জোট সরিকদের সঙ্গে বিরূপ মতামতের জন্য আরএসপি ও সিপিআইএম দুটি দলই প্রার্থী ঘোষণা করে। এই কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী সৈয়দ আসাদ আলি ও আরএসপি এর প্রার্থী বিকাশ চন্দ্র মিশ্র। আইএসএফের সঙ্গে এখনও জোটের জট কাটেনি।
হাসি রথের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নন্দীগ্রামে এক বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। দলের প্রার্থী হাসিরানি রথকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত বিপুল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী এক কড়া রাজনৈতিক বার্তা দেন। তিনি বলেন নন্দীগ্রাম আমার আবেগ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ঘাঁটি। বিরোধী দলগুলি বাংলাকে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার যে চেষ্টা করছে, এই উপনির্বাচনে জনগণ তার যোগ্য জবাব দেবেন। হাসিরানি দেবী কেবল একজন প্রার্থী নন, তিনি শহিদ পরিবারের প্রতীক। নন্দীগ্রামের মাটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে এবং এই কেন্দ্রের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। দলের প্রতিটি কর্মী নিষ্ঠার সাথে এই ভোটে জয় ছিনিয়ে আনবেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথও জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আশাবাদী। তিনি বলেন এই জয় হবে নন্দীগ্রামের মানুষের জয় এবং তাঁর প্রয়াত সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। বিজেপির পক্ষ থেকে মে মাসে নিহত দলীয় কর্মীর মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করার পেছনে একটি গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
