প্রিজন ভ্যানে করে সুমিত রায়কে নিয়ে কালীঘাটে হাজির সিআইডি
সংবাদদাতা, কলকাতা: শালবনি সরকারি জমি দুর্নীতি মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক তথা ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়কে প্রিজন ভ্যানে করে সোজা কালীঘাটে নিয়ে এল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট রোডের ১১৯ নম্বর বাড়িটি ঘিরে ফেলেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, এই ১১৯ নম্বর কালীঘাট রোডের বাড়িটি ঠিক তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পাশেই অবস্থিত। সুপ্রিম কোর্টে আইনি রক্ষাকবচ খারিজ হওয়ার ঠিক পরপরই সিআইডি এবং এসটিএফ এর যৌথ টিম এই অভিযান চালায়। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, শালবনির একটি বহুমূল্য সরকারি জমি ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে বেআইনিভাবে রূপান্তর এবং বিক্রির এক বিরাট চক্রের সন্ধান মিলেছে। এই দুর্নীতি মামলাতেই নাম জড়ায় সুমিত রায়ের। গত বৃহস্পতিবার মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সিআইডি সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারির পর তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে সরাসরি ঘটনাস্থলে আনা হয়। অভিযুক্তের উপস্থিতিতে তাঁর কালীঘাট রোডের বাড়ি এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। এই জমির জালিয়াতির সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত এবং এর আর্থিক লেনদেন ঠিক কোন কোন খাতে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই স্পট ভিজিট করানো হয় বলে সিআইডি সূত্রে খবর। এদিনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।তদন্তকারীদের দাবি, সুমিত রায়ের সঙ্গে এই জমি কেলেঙ্কারিতে ধৃত অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যেমন প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেদিনীপুর আদালতে সুমিতকে পেশ করে সিআইডি আট দিনের হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করিয়ে নেয়। বর্তমানে গোয়েন্দাদের হেফাজতে রেখে তাঁকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলায় আগামী দিনে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং নতুন নাম প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।
