সুন্দরবনে পাঁচতারা ট্রি–হাউস ও হেলিকপ্টার সফর, ঘোষণা মিঠুন চক্রবর্তীর
সংবাদদাতা, গোসাবা: সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে আমূল পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে এবার গড়ে উঠতে চলেছে ফাইভ স্টার মানের ইকো ফ্রেন্ডলি ট্রি–হাউস রিসর্ট। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এবং সুন্দরবনের মূল সৌন্দর্য ওপর থেকে উপভোগ করার জন্য চালু হচ্ছে আকাশপথে হেলিকপ্টার থেকে বাঘ দেখার বিশেষ ব্যবস্থা। রবিবার গোসাবায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী। বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে এমন ৮ থেকে ১০টি দ্বীপ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে কোনও জনবসতি নেই। সম্পূর্ণ নির্জন এই দ্বীপগুলিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে পরিবেশবান্ধব বিলাসবহুল রিসর্ট তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবে রূপায়ণের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ পদক্ষেপ করছে সরকার। তিনি জানান, আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাদের এই সমস্ত দ্বীপের জমি দীর্ঘমেয়াদী অর্থাৎ ৯৯ বছরের জন্য লিজে দেওয়া হবে। ক্ষেত্র বিশেষে সরকার স্থায়ীভাবে জমি হস্তান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রকল্পে কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে রিসর্ট তৈরিতে কোনও ধরনের কংক্রিটের নির্মাণ ব্যবহার করা যাবে না। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে গাছের ওপর পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
একই সঙ্গে রিসর্টের মানের ক্ষেত্রেও কোনও আপস করা চলবে না। তিনি বলেন, ফাইভ–স্টারের নীচে কোনও রিসর্ট তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে না। দেশি–বিদেশি উচ্চমানের পর্যটকরা যাতে কোনও রকম প্রকৃতিক ক্ষয়ক্ষতি না করে আন্তর্জাতিক মানের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা পান, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। তবে ঘন ম্যানগ্রোভের কারণে অনেক সময়ই পর্যটকরা নদীপথে ঘুরেও বাঘের দেখা পান না। এই সমস্যার সমাধানে এবং পর্যটকদের রোমাঞ্চ দ্বিগুণ করতে যুক্ত করা হচ্ছে আকাশপথে সফরও। হেলিকপ্টারে চড়ে ওপর থেকে সুন্দরবনের অরণ্য দেখার পাশাপাশি বাঘ দেখার সুযোগও তৈরি করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে সুন্দরবনের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে আধুনিক পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা যায়, সুন্দরবনের এই ট্রি–হাউস ও হেলিকপ্টার সফর প্রকল্পটি তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। এর ফলে রাজ্যে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আসবে, তেমনই স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
