জাভায় ডুবল যাত্রীবাহী জাহাজ, মৃত ৬, নিখোঁজ ১৩০
নয়াদিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর: ইন্দোনেশিয়ায় ফের বড়সড় দুর্ঘটনা। ইন্দোনেশিয়ায় জাভা সাগরে উল্টে গেল একটি যাত্রীবাহী জাহাজ। ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাস জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১৩০ জন এখনও নিখোঁজ। এখনও পর্যন্ত ১০৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছে।
কী ঘটেছিল
‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি শনিবার জাভা দ্বীপের সুরাবায়া বন্দর থেকে বোর্নিওর বন্দর শহর বঞ্জারমাসিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। বাসারনাস জানিয়েছে, রবিবার ভোররাতে জাহাজটির সঙ্গে পরিচালন সংস্থার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জাহাজে মোট ২৪৩ জন ছিলেন— ২১৩ জন যাত্রী এবং ৩০ জন কর্মী। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজটি উল্টে যায়। বঞ্জারমাসিনের স্থানীয় উদ্ধারকারী দফতরের প্রধান ই পুতু সুদায়ানা জানান, দুর্ঘটনার সময় জাহাজটি প্রবল ঝোড়ো আবহাওয়ার মুখে পড়ে।
সংবাদসংস্থা এএফপি সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজটির শেষ অবস্থান জানা গিয়েছিল বঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ৮১ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১৫০ কিলোমিটার) দূরে, জাভা সাগরে। উদ্ধারকারী জাহাজ ও হেলিকপ্টার নিয়ে ওই এলাকায় তল্লাশি চলছে। সুদায়ানা জানিয়েছেন, সাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা প্রায় আড়াই মিটার (৮ ফুটেরও বেশি) পর্যন্ত উঠছে, যা উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই পরিস্থিতি যে কোনও জাহাজের পক্ষেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি বাসারনাসের ৪০ মিটার দীর্ঘ নিজস্ব জাহাজও এই ঢেউয়ের মধ্যে বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে।
রাজধানী জাকার্তা থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জেসিকা ওয়াশিংটন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলছে, যেখানে আবহাওয়া এবং সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি— দুটি দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বারবার কেন এমন দুর্ঘটনা
প্রায় সতেরো হাজার দ্বীপ নিয়ে গড়া ইন্দোনেশিয়ায় বিমানের চেয়ে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় ফেরিই মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। কিন্তু সেই নির্ভরতাই বারবার প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গত মাসে বালি ও লম্বকের মধ্যে চলাচলকারী একটি ফেরিতে আগুন লেগে একজনের মৃত্যু হয় এবং পাঁচজন নিখোঁজ হন। এর আগে জুলাই মাসে সুলাওয়েসির দক্ষিণে সেলায়ার দ্বীপের কাছে সত্তরেরও বেশি যাত্রী নিয়ে একটি ফেরি ডুবে যায়।
ঘন ঘন এই ধরনের দুর্ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার জলপথ পরিবহণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে, এবারের দুর্ঘটনার পেছনে ঠিক কী কারণ কাজ করেছে
