বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

কে ছিলেন বিশ্বকর্মা? যার হাতে তৈরি হয়েছিল এই একাধিক ভাস্কর্য

15 September, 2026 4:08 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

এই রাজ্যে মহাধুমধাম করে হয় বিশ্বকর্মা পুজো। কে ছিলেন এই বিশ্বকর্মা। কেন তাঁকে দেবলোকের কারিগরি বিদ্যার দেবতা বলা হয়? বৃহস্পতির বোন যোগসিদ্ধা এবং অষ্টম বসু প্রভাসের সন্তান হলেন বিশ্বকর্মা — দেবলোকের প্রধান শিল্পী ও কারিগরদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। ঋগবেদে তাঁকে সৃষ্টির দেবতা বলা হয়েছে, যিনি স্বয়ং এই ব্রহ্মাণ্ড ও বিশ্বভুবনের নির্মাতা। ব্রহ্মা তৈরি করেন, তিনি তাঁর আকার তৈরি করেন। পুরাণ অনুসারে, প্রতিটি যুগেই বিশ্বকর্মা এক-একটি বিস্ময়কর স্থাপত্য গড়ে তুলেছেন। সত্যযুগে স্বর্গলোক, ত্রেতাযুগে লঙ্কা, দ্বাপরযুগে দ্বারকা এবং কলিযুগে হস্তিনাপুর — প্রতিটিই তাঁর হাতে তৈরি।

শ্রীকৃষ্ণের জন্য দ্বারকা নগরী গড়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি দেবতাদের স্বর্গলোক নির্মাণও তাঁরই কীর্তি। লঙ্কানগরীর স্রষ্টাও বিশ্বকর্মা। শিব ও পার্বতীর জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন এক সোনার প্রাসাদ। সেই প্রাসাদের গৃহপ্রবেশের পুজোয় ব্রাহ্মণশ্রেষ্ঠ ও পরম শিবভক্ত রাবণকে আমন্ত্রণ জানান স্বয়ং মহাদেব। পুজো শেষে দক্ষিণা হিসেবে রাবণ চেয়ে বসেন সেই স্বর্ণপ্রাসাদই। শিব তা রাবণকে দান করেন, আর তখন থেকেই এই স্বর্ণলঙ্কা হয়ে ওঠে রাবণের রাজধানী। যদিও একটি ভিন্ন মত বলছে, বিশ্বকর্মা আসলে এই সোনার লঙ্কা বানিয়েছিলেন কুবেরের জন্য, পরে যুদ্ধে হারিয়ে রাবণ তা দখল করে নেন।

ঋষি অগস্ত্যের বাসভবন, কুবেরের অলকাপুরী, এমনকি কৌরব-পাণ্ডবদের রাজধানী হস্তিনাপুরও বিশ্বকর্মার সৃষ্টি বলে কথিত। শ্রীকৃষ্ণের অনুরোধে পাণ্ডবদের জন্য তিনি নির্মাণ করেছিলেন ইন্দ্রপ্রস্থ নগরী। পুরীর জগন্নাথ মন্দির এবং জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার কাঠের মূর্তিও তাঁরই হাতে গড়া বলে বিশ্বাস করা হয়। এমনকি বেহুলা-লখিন্দরের সেই বিখ্যাত লৌহ-বাসরঘরও তৈরি করেছিলেন বিশ্বকর্মা।

স্থাপত্যের পাশাপাশি দেব-দেবীদের অস্ত্র নির্মাণেও তাঁর জুড়ি নেই। মহাদেবের ত্রিশূল, বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, ইন্দ্রের বজ্র, কুবেরের অস্ত্র, কার্তিকের ধনুক, হনুমানের গদা, যমরাজের কালদণ্ড, এমনকি কর্ণের বিখ্যাত কবচ-কুণ্ডল — সবকিছুরই স্রষ্টা তিনি। দেবতাদের জন্য আকাশযান, উড়ন্ত রথ এবং পুষ্পক রথও তাঁরই কীর্তি।

রামায়ণের আদিকাণ্ডে উল্লেখ আছে, বিশ্বকর্মা এক জোড়া ধনুক তৈরি করেছিলেন, যার একটি তুলে দেন মহাদেবকে। শিবের সেই হরধনু ভেঙেই সীতাকে বিবাহ করেছিলেন শিবভক্ত শ্রীরামচন্দ্র।এভাবেই আর্যাবর্তের প্রায় প্রতিটি শিল্পকর্মে মিশে আছে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার হাতের ছোঁয়া।

 

প্রতিবেদন

UTSAB RC