বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

মোদক কেন প্রিয় সিদ্ধিদাতা গণেশের?

13 September, 2026 2:15 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

 সুছন্দা ঘোষ

গণেশ পুজোকে ঘিরে পুরাণে একাধিক কাহিনি আছে। সবচেয়ে প্রচলিত কাহিনিটি শুধু গণেশের জন্মের গল্প নয়—এর মধ্যে রয়েছে মাতৃভক্তি, কর্তব্য, ক্রোধ, ক্ষমা এবং নতুন করে জন্ম পাওয়ার প্রতীকী অর্থ।

পার্বতীর সন্তান গণেশ

একদিন দেবী পার্বতী স্নান করতে যাওয়ার আগে শরীরে চন্দন মাখছিলেন। সেই কাজে তাঁকে সাহায্য করছিলেন তাঁর দুই সখী জয়া ও বিজয়া। দেবীর সেই চন্দনের প্রলেপ থেকে তাঁরা একটি বালকের মূর্তি তৈরি করলেন। সেই মূর্তি দেখে খুশি হয়ে দুর্গা তাতে প্রাণ সঞ্চার করলেন। তারপর তাকে নিজের পুত্ররূপে গ্রহণ করলেন। সেই বালকই গণেশ।

পার্বতী তাকে নির্দেশ দিলেন, তিনি স্নান না করা পর্যন্ত যেন কাউকে ভিতরে ঢুকতে না দেওয়া হয়। সেই সময় সেখানে এসে উপস্থিত হলেন মহাদেব শিব। কিন্তু গণেশ তাঁকে চিনতেন না। মায়ের আদেশ মেনে তিনি শিবকে প্রবেশে বাধা দিলেন। শিব বারবার নিজের পরিচয় দিলেও গণেশ পথ ছাড়লেন না। শেষ পর্যন্ত বিরোধ চরমে উঠল। শিব তখন রেগে গিয়ে তাঁর ত্রিশূল দিয়ে গণেশের মস্তক ছিন্ন করলেন।

পার্বতী যখন এই ঘটনা জানতে পারলেন, তখন তাঁর ক্রোধে দেবলোক পর্যন্ত কেঁপে উঠল। তিনি ঘোষণা করলেন, গণেশকে জীবিত না করলে তিনি ভয়ংকর রূপ ধারণ করবেন। দেবতারা শিবের কাছে গণেশকে পুনর্জীবিত করার অনুরোধ করলেন। শিব তখন নির্দেশ দিলেন, যে প্রাণীর মস্তক প্রথম পাওয়া যাবে, তার মাথা এনে গণেশের দেহে স্থাপন করতে হবে।

দেবতারা একটি হাতির মস্তক নিয়ে এলেন। সেই মস্তক গণেশের শরীরে স্থাপন করে তাঁকে পুনর্জীবন দিলেন মহাদেব। তারপর শিব গণেশকে আশীর্বাদ করে ঘোষণা করলেন, যে কোনও শুভ কাজের আগে গণেশের পূজো করা হবে। তিনি হবেন বিঘ্ননাশক, সিদ্ধিদাতা এবং গণপতি।

আর একটি প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। গণেশের জন্মের পর দেবতারা তাঁকে দেখতে কৈলাসে আসেন। শনিদেবও সেখানে ছিলেন। কিন্তু শনি জানতেন, তাঁর দৃষ্টির প্রভাবে অমঙ্গল ঘটতে পারে। তাই তিনি গণেশের দিকে তাকাতে চাইছিলেন না।

পার্বতী বারবার অনুরোধ করায় শনি শেষ পর্যন্ত গণেশের দিকে তাকান। তাঁর দৃষ্টি পড়তেই গণেশের মস্তক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পার্বতীর শোক ও ক্রোধ প্রশমিত করতে শিব গণেশকে হাতির মস্তক দিয়ে পুনর্জীবিত করেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। এই শনির দৃষ্টির কাহিনি সব পুরাণে নেই। গণেশের জন্ম ও হাতির মস্তক লাভের সবচেয়ে প্রচলিত বর্ণনায় শিবের সঙ্গে গণেশের সংঘর্ষ এবং শিবের হাতে তাঁর মস্তকচ্ছেদের কথাই পাওয়া যায়। অর্থাৎ, শনির দৃষ্টিতে গণেশের মাথা উড়ে যায়— এটি একটি প্রচলিত পুরাণকথা।

 

গণেশের বাহন মূষিক কেন?

গণেশের সঙ্গে মূষিক বা ইঁদুরের কাহিনিও পুরাণে বিভিন্নভাবে এসেছে। একটি জনপ্রিয় কাহিনিতে বলা হয়, এক শক্তিশালী অসুর অভিশাপে মূষিকে পরিণত হয়। গণেশ তাকে নিজের বাহন করে নেন।

এর একটি সুন্দর প্রতীকী ব্যাখ্যাও আছে। হাতির মতো বিশাল শক্তির অধিকারী দেবতা একটি ক্ষুদ্র মূষিককে বাহন করেছেন। অর্থাৎ শক্তি শুধু বড়কে দমন করার জন্য নয়, ক্ষুদ্রতম শক্তিকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে কাজে লাগানোই প্রকৃত সিদ্ধি।

মোদক কেন গণেশের প্রিয়?

গণেশের হাতে যে গোলাকার মিষ্টি দেখা যায়, সেটিই মোদক। বিভিন্ন পুরাণ ও লোককথায় মোদককে জ্ঞান ও আনন্দের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। বাইরের আবরণ সাধারণ, কিন্তু ভিতরে মিষ্টি পুর—অনেকটা জ্ঞানের মতোই, যার আসল মাধুর্য ভিতরে। অন্তরের শক্তিই প্রকৃত শক্তি, বাইরের আবরণ কিছুই নয়। মোদকের মধ্য দিয়ে সিদ্ধদাতা মানুষের কাছে সেটাই যেন বোঝাতে চেয়েছেন।

এই কারণেই গণেশ পুজোয় মোদক, লাড্ডু এবং নানা মিষ্টি নৈবেদ্য দেওয়ার প্রচলন হয়েছে। আর গণেশ চতুর্থীর মূল ভাবনাটিও এখানেই—বুদ্ধি, সিদ্ধি ও শুভবুদ্ধির আরাধনা করে জীবনের বাধা দূর করার প্রার্থনা জানান ভক্তরা। ওঁ বক্রতুণ্ড মহাকায় সূর্যকোটি সমপ্রভ / অবিঘ্নং কুরু মে দেব সর্বকার্যেষু সর্বদাপ্রভ।।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik