বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

কৌশিকী অমাবস্যা কী?‌ এই তিথিতে জন্ম হলে ভবিষ্যৎ কী হতে পারে?‌

10 September, 2026 7:58 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

জ্যোতিষাচার্য উৎপলকুমার দাস

বৃহস্পতিবার সকাল ১০–৩৪ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে কৌশিকী অমাবস্যা। প্রথমেই বলে রাখা দরকার যে, কথাটা কৌশিকী অমাবস্যা নয়। এটা আসলে কৌশি অমাবস্যা। আমরা অনেকে এই কথাটা ভুল বলে থাকি। মঘা নক্ষত্র দিয়ে শুরু হয়েছে এই অমাবস্যা। শুক্রবার পূর্বফল্গুনী নক্ষত্র দিয়ে অমাবস্যা শেষ হবে।
এখন কথা হল কৌশি অমাবস্যার গুরুত্ব কী? বা এই দিনটিতে কোনও জাতক বা জাতিকার জন্ম হলে সে কেমন হবে বা তার ভাগ্য কীরকম থাকবে?‌ সাধারণ জ্যোতিষ ক্ষেত্রে অমাবস্যায় জন্মকে একটু বক্র দৃষ্টিতে দেখা হয়। কারণ চন্দ্রের কোনও জোর সেখানে থাকে না। অর্থাৎ চন্দ্র শক্তিহীন হয়ে থাকে। চন্দ্র হল মানুষের মনের কারক গ্রহ। মাতার কারক গ্রহ এবং স্নেহ, ভালোবাসা, মানসিক ধৈর্য্যের কারক। তাই এই সময় জন্ম হলে ওই ক্ষেত্রগুলির ওপর কিছু অশুভ প্রভাব পড়ে।
এবার আসা যাক তিথিটির নাম কেন কৌশি অমাবস্যা হল সে প্রসঙ্গে। হিন্দু শাস্ত্রে কথিত আছে দেবী পার্বতী তার শরীরের কালো বর্ণ কোষ দিয়ে এক ভয়ঙ্কর সুন্দর দেবী মূর্তির সৃষ্টি করেছিলেন। যাঁর ভয়ানক শক্তিতে শুম্ভ এবং নিশুম্ভ নামক দুই দানব বধ হয়েছিল। আজকের দিনেই সেই কৈশি দেবীর আবির্ভাব হয়েছিল। তাই এই দিনটি কৌশি অমাবস্যা নামে প্রচলিত। এই দিনটিতে তারাপীঠ মহাশ্মশানে বহু তান্ত্রিক মাতৃ আরাধনা বা তন্ত্রকর্ম করে থাকেন শুভ শক্তির আরাধনা এবং অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য। এই অমাবস্যাকে ‘‌তারারাত্রি’‌ও বলা হয়। কথিত আছে, তারাপীঠের অধিষ্ঠাত্রী মা তারা- যিনি দশমহাবিদ্যার এক শক্তি, তিনি এই দিনেই ধরাধামে আবির্ভূতা হয়েছিলেন। সেই জন্য এই তিথি এবং মা তারা প্রায় সমার্থক হয়ে গিয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ মা তারার চরণে তাদের পুজো অর্পণ করেন মঙ্গল কামনার্থে। কথিত আছে এই অমাবস্যা নিশিতে তারাপীঠে কোনও তন্ত্রক্রিয়া করলে যাবতীয় অশুভ শক্তি দূরীভূত হয় এবং শুভশক্তিকে জাগ্রত করা যায়।
এবার দেখা যাক এই দিন রাশিচক্রের কী অবস্থান রয়েছে। প্রথমত বৃহস্পতি তুঙ্গ অবস্থানে কর্কট রাশিতে বসে রয়েছেন। কিন্তু মঙ্গল মিথুন রাশিতে থাকায় এই অবস্থানকে শুভ বলা যায় না। এদিন জন্ম হলে চন্দ্র যে দুর্বল থাকবে তা আগেই বলা হয়েছে। সুতরাং এই দিনটিতে যারা জন্ম নেবে তাদের বৃহস্পতি বিশেষ শুভ হবে। আর্থিক, বিদ্যাক্ষেত্র, সামাজিক প্রতিষ্ঠা প্রভৃতির শুভ যোগ প্রবল। তবে চন্দ্রের অবস্থানের কারণে মানসিক শান্তির অভাব হবে। মানসিক স্থিরতা থাকবে না। জাতকের মায়ের স্বাস্থ্য ভালো যাবে না। মঙ্গলের অশুভ অবস্থানের ফলে রক্তপাত, ছোটখাটো দুর্ঘটনা, বদ মেজাজ, অতিরিক্ত জেদ, নিজের ভালো না বোঝার মতো বিষয়গুলি জাতকের মধ্যে লক্ষ্য করা যাবে।
অন্যদিকে শুক্র ক্ষেত্রস্থ হওয়ায় সৌন্দর্যপ্রিয়তা, সৌভ্রাতৃত্ব বোধ বজায় থাকবে। সমস্যা হল যে চন্দ্র ১০ সেপ্টেম্বর মঘা নক্ষত্র থেকে কেতুতে গমন করছে। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেতুতেই অবস্থান করবে। অর্থাৎ ১০ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জন্ম হলে মানসিক সমস্যা কম হবে। বুধ নিজের ঘরে অর্থাৎ কন্যা রাশিতে থাকায় এইসব জাতক–জাতিকা হবে বুদ্ধিমান। ব্যবসা ক্ষেত্র শুভ হবে। কম্পিউটার বা টেলিকমিউনিকেশনের ব্যাপারে সাফল্য আসবে। শনি ও রাহুর অবস্থানও মোটামুটি শুভই থাকবে। আসলে এই দুটি গ্রহকে নিয়ে সাধারণের মনে কিছু ভীতি থেকেই যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে জন্ম হলে এই দুটি গ্রহ থেকে কোনও রকম আশঙ্কার কারণ তো নেই–ই বরং শুভ ভাবই দেখা যাচ্ছে। তবে শেষে একই ফের কথা বলতে হয় যে, চন্দ্রের অবস্থান কিন্তু আজকের দিনে জন্ম হওয়া জাতক–জাতিকাদের পক্ষে বেশ অশুভ। পরবর্তী সময়ে কোনও প্রাজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik